মিসরের পার্লামেন্টে নতুন খসড়া সংবিধান অনুমোদনের প্রতিবাদে গতকাল শনিবার হাজার হাজার মানুষ কায়রোর তাহরির স্কোয়ারে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে। বিক্ষোভকারীরা বলেছেন যে, এ ধরনের সংবিধান দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। তারা শ্লোগান দিতে থাকেন যে, দেশটিতে সাংবিধানিক পরিষদ অনেক নিচে নেমে গেছে। এজন্য তারা এই পরিষদকে ধিক্কার জানান। ১০০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি এই খসড়া করেছে যা গত বৃহস্পতি ও শুক্রবারের ২০ ঘন্টাব্যাপী ভোটাভুটিতে অনুমোদিত হয়। খসড়া সংবিধানের ২৩৪টি ধারার সবগুলো অনুমোদন করেছে পার্লামেন্ট।
রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম ও শরিয়া আইনকে উত্স হিসাবে রেখে এই নতুন খসড়া সংবিধানটি অনুমোদন হয়। এরপর এটি প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের জন্য মোহামেদ মুরসির কাছে পাঠানো হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি অনুমোদনের আগে প্রেসিডেন্ট মুরসি এ বিষয়ে একটি গণভোটের আয়োজন করবেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মোবারক প্রণীত সংবিধানেও ওই বিষয়গুলো বহাল ছিল। নতুন সংবিধানেও তা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। ইসলামপন্থিরা নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গী সংবিধানের ওপর চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছে পার্লামেন্টের উদারপন্থী, বামপন্থী ও খ্রিস্টান সদস্যরা। তারা বলেছেন যে, এতে নারী ও সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অধিকার রক্ষা হয়নি।
সর্বশেষ সাংবিধানিক পরিষদে নতুন খসড়া সংবিধান অনুমোদিত হলে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মিসরের হাজার হাজার মানুষ। তারা সাংবিধানিক পরিষদকে ধিক্কার দিয়ে শ্লোগান দেন। এ সময় তাদের হাতে ব্যানারে প্রেসিডেন্ট মুরসিকে ‘একনায়ক মুরসি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। শ্লোগানে তারা মুরসি সরকারের নিপাত যাওয়ার কথাও বলেন।
