ব্রাজিলের নতুন কোচ লুইজ ফিলিপ স্কলারি মনে করেন ২০১৪ সালে নিজের দেশে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপের আগে তার দলকে শক্তিশালী বিপক্ষের সাথে খেলা উচিত। তার এমন মন্তব্যের কারণ স্বাগতিক হিসেবে তাদের দক্ষিণ আমেরিকার বাছাই পর্বেও খেলতে হচ্ছে না। স্কলারি দ্বিতীয়বারের মতো ব্রাজিলের দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেন। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে ব্রাজিলের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার প্রতিপক্ষ ঠিক করার দায়িত্ব হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল স্পোর্টস ইভেন্টস (আইএসই)-এর। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) সাবেক প্রধান রিকার্ডো টিসেরা ২০১১ সালের নভেম্বরে আইএসইর সাথে এ ব্যাপারে চুিক্ত করেন। এ চুক্তির বলে আইএসই সেলেচাওদের খেলার সূচি ঠিক করার দায়িত্ব পায়। স্কলারি এ ব্যবস্থায় সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির সাথে কথা বলবেন বলেও জানান। জাতীয় দলের দায়িত্ব নেয়ার পর ব্রাজিলের প্রধান কোচ বলেন,‘আমরা তাদের বলবো শক্তিশালী প্রতিপক্ষ খুঁজে দিতে। কেননা এটা গুরুত্বপূর্ণ।’
অলিম্পিক গেমসের পর ব্রাজিল শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খেলছে না বলে সমালোচিত হচ্ছে। এ সময়ে তারা খেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন ও ইরাকের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এরকম বিপক্ষের সাথে খেলা নিয়ে সমালোচনা আছে। গত ১৮ মাসের মধ্যে ব্রাজিল গ্যাবন ও মিসরের মতো দলের বিরুদ্ধেও খেলেছে। এ ধরনের বিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্রাজিলের হারার আশংকা নেই। সিবিএফের নতুন প্রধান হোসে মারিনও জানিয়েছেন বিপক্ষ ঠিক করার অধিকার এখন আর তার সংস্থার হাতে নেই।
পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল অবশ্য ২০১৩ সালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে হোম এন্ড অ্যাওয়ে ভিত্তিতে খেলবে। আগামি বছরের জুনে নিজেদের মাটিতে কনফেডারেশন কাপের আগে ফ্রান্সের সাথেও খেলার কথা রয়েছে তাদের। এদিকে বার্সেলোনার সাথে ব্রাজিল ফুটবল দলের কোন মিলের ব্যাপারটি স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছেন সেলেচাওদের সর্বশেষ বিশ্বকাপ জেতানো স্কলারি। তিনি মনে করেন ব্রাজিল ফুটবলের রয়েছে আপন চরিত্র, গুণাগুণ ও স্বকীয়তা।
স্কলারির দল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে না খেললেও সামনে বছর কনফেডারেশন কাপের মতো কঠিন টুর্নামেন্টে অংশ নিতে হবে। পরের বছর ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল হবে সেখানেই। স্কলারিকে তাই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে। ব্রাজিল ও বার্সেলোনার ব্যাপারে তিনি বলেন,‘আমরা যদি চেষ্টা করি ইনিয়েস্তা, জাভি এবং মেসিকে নিয়ে আসার তাহলে আমরা বার্সেলোনার মত খেলতে পারি। আর ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের মধ্যে এসব কিছু নেই।’ তিনি আরো যোগ করেন,‘আমরা এমন একটি দল গড়ব যে দলটা ভাল ফুটবল খেলতে পারে। কিন্তু একই সময় আমাদের অবশ্যই শ্রদ্ধা করতে হবে প্রত্যেক খেলোয়াড়ের বৈশিষ্ট্যকে। আমাদের আলাদা পরিচয় রয়েছে। কিন্তু আমরা জানি বৈশিষ্ট্যের ব্যাপারে কি করতে হবে যেন প্রত্যক খেলোয়াড় নিজেরটা দিতে পারে। ’
স্কলারি মনে করেন বাছাইয়ে না খেললেও কনফেডারেশন কাপ তাকে সাহায্য করবে দুর্দান্ত একদল তৈরিতে। বাছাইয়ে খেললে কি হতো সে সম্পর্কে তিনি বলেন,‘এই পর্বটিতে দলের শক্তি চিহ্নিত করা যেতো। দল সুবিধা পেতে পারতো। কিন্তু আমরা বাছাইয়ে নেই। আমাদের মানসম্পন্ন খেলোয়াড় রয়েছে। আর আমি কখনই একমত হবো না যে বলা হবে দলটি খুবই তরুণ। এটা সেরা দল। কিন্তু আমরা হারিয়েছি অনেক চ্যালেঞ্জিং প্রতিপক্ষ। ২০০২ সালে আমাদের দলটি ছিল গোছানো। আমাদের একটি পদ্ধতিও ছিল। আমরা এমন একটি দল গড়ব প্রীতি ম্যাচ এবং কনফেডারেশন খেলে।’
স্কলারি পর্তুগাল ও কুয়েতের কোচ ছিলেন। ব্রাজিলের হয়ে তার প্রথম মিশন আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে। ব্রাজিল প্রীতি ম্যাচ খেলবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। স্কলারি মনে করেন কনফেডারেশন কাপ গুরুত্বপূর্ণ তার দলের জন্য। তিনি বলেন,‘এটা আমাদের একটি রূপরেখা দেবে। তখন আমরা বুঝব এই দল থেকে আমাদের কি দরকার। এটা একটা ভাল সুযোগ, চ্যালেঞ্জিং ম্যাচসহ। যেহেতু আমরা বাছাইয়ে অংশগ্রহণ করছি না। এটা অবশ্য আবার ভাল খেলোয়াড়রা কিভাবে প্রতিক্রিয়া করে তা দেখতে হবে।’
