ওয়েস্ট ইন্ডিজে গিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিয়ানদের হোয়াইট ওয়াশ করার ঘটনাটা এতোদিন সবাই ফ্লুক বলেই মনে করেছেন। এমনকি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘরের মাটিতে ৬১ রানে অলআউট করাটাকেও কেউ বড় ঘটনা মনে করছিলেন না। কারণ, ২০০৯ সালের হোয়াইট ওয়াশ হওয়া সেই দলটিতে ছিলেন ক্যারিবিয় আন্তর্জাতিক তারকারা। আর ৬১ রানে অলআউট হওয়া দলে ছিলেন না ক্রিস গেইল।
এবার বাংলাদেশ সেই গেইল-স্যামুয়েলসের দলকেই স্রেফ উড়িয়ে দিয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচ জিতল। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের একটা ইতিহাসও তৈরি হয়ে গেল—প্রথমবারের মতো আইসিসি র্যাংকিংয়ে আট নম্বরে উঠে এলো বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এটাকে নিঃসন্দেহে একটা স্বপ্নযাত্রা বলা চলে। তবে স্বপ্নযাত্রাটা চাইলে আরও বড় করে ফেলতে পারে বাংলাদেশ দল।
যদিও ব্যাপারটা নিতান্ত কাগজ কলমের; তারপরও আইসিসির হিসাব বলছে, এই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজকেই পেছনে ফেলে ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের সাত নম্বরে চলে আসা সম্ভব বাংলাদেশের। সেজন্য শুধু সিরিজটা জিতলে হবে না, নিদেনপক্ষে এই সিরিজে ৪টি ম্যাচ জিততে হবে বাংলাদেশকে।
বর্তমানে ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে বাংলাদেশ আছে র্যাংকিংয়ের ৮ নম্বরে। ৭২ পয়েন্ট নিয়ে নিউজিল্যান্ড এক ধাপ পেছনে চলে গেছে। আর সাত নম্বরে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেটিং ৯০। বাংলাদেশ যদি এই সিরিজে চারটি ম্যাচ জেতে তাহলে বাংলাদেশের পয়েন্ট হবে ৮৫ এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ নেমে চলে আসবে ৮৩ পয়েন্টে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ সাত নম্বর দল হয়ে যাবে। আর টানা ৫ ম্যাচ জিততে পারলে তো কথাই নেই।
তবে উল্টো চিত্রও আছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ জিতে গেলে বাংলাদেশ আবার সেই আগের জায়গা, নয় নম্বরে চলে আসবে। তবে সিরিজের ফলাফল বাংলাদেশের পক্ষে ৩-২ হলে অবস্থান এখনকার মতোই থাকবে; মানে বাংলাদেশ আট নম্বরেই রয়ে যাবে।
কার্যত এই আট নম্বর জায়গাটা ধরে রাখাই বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। সাত নম্বরে যাওয়া আকাশছোঁয়া স্বপ্নের মতো ব্যাপার। কিন্তু বাংলাদেশ দলের এ বছরের পারফরম্যান্স শুধু মাথায় নিলে সেটাকে অসম্ভব বলে তো মনে হয় না। এই ২০১২ সালে আজকের আগ পর্যন্ত ৫টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিনটি জয়। সেইসঙ্গে এশিয়া কাপের ফাইনালে ২ রানে হেরে ট্রফি মিস।
এখন বাংলাদেশকে ওয়ানডের ধারাবাহিক দল বলাই চলে। তাহলে সাত নম্বরের স্বপ্ন দেখতেই বা দোষ কোথায়?
আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিং
দল রেটিং
ইংল্যান্ড ১২১
দক্ষিণ আফ্রিকা ১২১
ভারত ১২০
অস্ট্রেলিয়া ১১৩
শ্রীলঙ্কা ১১০
পাকিস্তান ১০৪
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯০
বাংলাদেশ ৭৫
নিউজিল্যান্ড ৭২
জিম্বাবুয়ে ৫০
