এগিয়ে যাওয়ার লড়াই আজ

আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৭
গত কয়েক বছর ধরেই বলা হচ্ছে, বাংলাদেশ ওয়ানডেতে শক্তিশালী দল হয়ে উঠছে। কোচ ও খেলোয়াড়রা দাবি করেন, টেস্ট বা টি-টোয়েন্টিতে ভালো করতে না পারলেও একদিনের ম্যাচে তারা এখন ‘বড় দল’। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে অনায়াসে হারানোর পর বাংলাদেশের এই দাবির পক্ষে প্রমাণ মিলেছে। নিউজিল্যান্ডকে পেছনে ফেলে প্রথমবারের মতো আইসিসি র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ উঠে এসেছে আট নম্বরে। এখন সুযোগ আছে, এই সিরিজেই ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে র্যাংকিংয়ের সাত নম্বর দল হওয়ার। আর আকাশ ছোঁয়া এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে দ্বিতীয় লড়াই আজ বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয়টি আজ খুলনার আবু নাসের স্টেডিয়ামেই। যথারীতি সকাল নয়টা থেকে শুরু হওয়া ম্যাচটি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চ্যানেল নাইন সরাসরি সমপ্রচার করবে। সারা দেশের মানুষ স্বপ্ন দেখছে এই ম্যাচে জিতে বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের দিকে আরেকটু এগিয়ে যাবে এবং এগিয়ে যাবে র্যাংকিংয়ে আরও এক ধাপ উন্নয়নের দিকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা এই এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে দারুণ আশাবাদী। প্রথম ম্যাচের পরই আব্দুর রাজ্জাক, তামিম ইকবাল, সোহাগ গাজীরা বলেছেন, তারা এই জয়ের ধারা ধরে রাখতে চান। তামিম ইকবাল একটি ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইটকে বলেছেন, ‘আমরা এই জয়টা আশা করছিলাম। সেই সঙ্গে এখন পরের ম্যাচেও জয় আশা করছি। জয়ের জন্যই মাঠে নামবো আমরা।’ প্রায় একই ধরনের কথা বললেন অনেক দিন পর জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানো মাশরাফি বিন মুর্তজাও। যদিও দেশের সর্বশেষ ওয়ানডেতে খেলেছেন। কিন্তু মাঝে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি দলে ছিলেন না। তারপরও ফিরেই আবার জয়ের সাক্ষী হলেন এবং জয়ে ভূমিকাও রাখলেন। গতকাল খুলনায় অনুশীলন শেষে মাশরাফি বলছিলেন, ‘প্রতিপক্ষ যদি দক্ষিণ আফ্রিকাও হত, তাও আমরা সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই খেলতাম। প্রথম ম্যাচ জিতে আছি, এ অবস্থায় সে লক্ষ্য না রাখার কোনো কারণ নেই। আমাদের পজেটিভ থাকতে হবে। যে কোনো মূল্যে কাল (আজ) জয় নিয়ে ঢাকায় যেতে হবে।’ মাশরাফির এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে গেলে নিশ্চিত করেই বাংলাদেশকে প্রধান ভরসা করতে হবে স্পিনারদের উপর। আশার কথা, ইতিমধ্যে সাকিব আল হাসানের অনুপস্থিতিতে সোহাগ গাজী স্পিন দিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজদের কাবু করতে পেরেছেন। সেই সঙ্গে সিনিয়র স্পিনার রাজ্জাকও আছেন ফর্মে। তবে বাংলাদেশের দুশ্চিন্তার জায়গা এখনও নিশ্চয়ই ব্যাটিং। ওপেনিংয়ে তামিম ইকবাল ক্যারিয়ারের তুঙ্গ ফর্মে আছেন। সঙ্গী হিসেবে অভিষিক্ত আনামুল হকও প্রথম ম্যাচে ভালো ইনিংস খেলেছেন। বড় ইনিংস খেলেছেন নাঈম ইসলামও। কিন্তু এ ছাড়া বাকি ব্যাটসম্যানদের সেভাবে পরীক্ষাই হয়নি। ফলে মিডল অর্ডারে সাকিবের অভাবটা মোমিনুল ঠিক পূরণ করতে পারবেন কি না; তা নিয়ে ভয় থেকেই যাচ্ছে। ভয় আছে পেস বোলিং নিয়েও। ব্যাট হাতে দারুণ টেস্ট অভিষেক হওয়া পেসার আবুল হোসেন বল হাতে এখনও নিজেকে খুঁজে পাচ্ছেন না। মাশরাফিও তার ক্যারিয়ারে সেরা অবস্থায় আছেন; তা বলা যাচ্ছে না। ফলে কিছু দুশ্চিন্তা থাকছেই। তবে এসব দুশ্চিন্তার বিপরীতে বড় আশার ব্যাপার হয়ে থাকছে প্রথম ম্যাচ থেকে পাওয়া আত্মবিশ্বাস। এর পাল্টা ওয়েস্ট ইন্ডিজও আজ নিশ্চয়ই মরিয়া চেষ্টা করবে সিরিজে সমতা ফেরাতে। ইতিমধ্যে দুটি টেস্টেই চরম পরীক্ষা দিয়ে জয় পেতে হয়েছে ক্যারিবীয়দের। সেই সঙ্গে প্রথম ম্যাচে হার। এখন টি-টোয়েন্টি চ্যাম্পিয়নদের নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করাই মূল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের কাজ এখন ক্যারিবীয়দের এই সক্ষমতাকেই চ্যালেঞ্জ করা।