প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিজয়ের মাসে আন্দোলন-কর্মসূচি দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ঠেকানো যাবে না। এদের বিচার বাংলার মাটিতে হবেই। জনগণের মনের আওয়াজ শুনে জামায়াতের সঙ্গ ছাড়ার জন্য তিনি বিরোধী দলীয় নেতার প্রতি আহবান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, না হলে জামায়াত রাজাকারদের সাথে আপনিও ভেসে যাবেন। তিনি আরো বলেন, বিএনপি যখনই ক্ষমতায় আসে, তখনই লুটপাট করে, মানুষ খুন হয়। গাড়ি থেকে মানুষ নামিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার নজিরও তাদের রয়েছে। অপরদিকে আওয়ামী লীগ যখন ক্ষমতায় আসে দেশের মানুষ পেট ভরে খায়। ছেলে-মেয়েরা লেখাপড়ার সুযোগ পায়। আমরা চলতি বছরের প্রথমে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দিতে পেরেছি। আগামী জানুয়ারি মাসের প্রথমেই ছেলে-মেয়েদের হাতে বিনামূল্যের ২৭ কোটি বই তুলে দেয়া হবে ইনশাল্লাহ। দেশ-বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছি। এতে যুবসমাজ বেকারত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাচ্ছে। দেশ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দেয়ার আহ্বান জানান।
শনিবার মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ এম,এ শহীদ এমপির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার ও সমবায় মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সিলেট সিটি মেয়র বদরউদ্দিন কামরান, দপ্তরবিহীন মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত, মৌলভীবাজার-৩ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য সৈয়দ মহসীন আলী, মৌলভীবাজার-২ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য নবাব আলী আব্বাছ খান, মৌলভীবাজার-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য শাহাব উদ্দিন আহমদ, জেবুন নেছা হক এমপি, সাবেক সংসদ সদস্য হোসনে আরা ওয়াহিদ, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিছবাউদ্দিন সিরাজ, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ আজিজুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নেছার আহমদ, যুবলীগ সভাপতি ফজলুর রহমান প্রমুখ।
বিরোধী দলীয় নেতা খালেদা জিয়ার বক্তব্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার ছেলেদের লুটপাট করে পাচার করা অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনার পরও তিনি বলছেন, তার ছেলেরা সত্। তিনি বলেন, দুর্নীতি আর লুটপাট করে পাচারকৃত ফেরত আনা টাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের কাজে ব্যবহূত হবে।
সকাল ১১টায় মিছিল নিয়ে উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মৌলভীবাজার সভাস্থলে আসতে থাকেন। পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলো থেকেও মানুষ বাস-ট্রাকযোগে সভায় যোগ দেন। দুপুর দেড়টায় সভাস্থলের বিশাল মাঠ নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে ওঠে। স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মৌলভীবাজার শহর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১১টা ৫০ মিনিটে হেলিকপ্টারযোগে জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার বর্ডার গার্ড মাঠে অবতরণ করেন। তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা ৫০ শয্যা হাসপাতাল উদ্বোধন করেন। উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ কলেজ, শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ১.৩০ টায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পথে জেলা সদরে পৌঁছান। তিনি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, মৌলভীবাজার রাডার সিস্টেম, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট উদ্বোধন ও জেলা মহিলা সংস্থা ভবন, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বিকেলে শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের সভামঞ্চে উঠলে হাজার হাজার মানুষের স্লোগানে গোটা এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। এ সময় শেখ হাসিনা দুই হাত নেড়ে জনতাকে শুভেচ্ছা জানান। সভায় দীর্ঘ ২৬ মিনিট তিনি বক্তৃতা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মৌলভীবাজারের সর্বত্র ছিল সাজ সাজ রব। শ্রীমঙ্গল থেকে মৌলভীবাজার পর্যন্ত দৃষ্টিনন্দন রাস্তার পাশে সুদৃশ্য তোরণ বানানো হয়। রঙ্গিন পোস্টার ও ফেস্টুন লাগানো হয়েছে বিভিন্ন তোরণে ও রাস্তার পাশে। ২০০২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা মৌলভীবাজার সফরে এসেছিলেন। দীর্ঘ ১০ বছর পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মৌলভীবাজারে আগমন উপলক্ষে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণচাঞ্চল্য দেখা দেয়।
