স্বাধীনতার ৪১ বছরে বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের প্রথম দিনেই লাখো জনতাকে সঙ্গে নিয়ে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের বিচার দাবি ও সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডবলীলা প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়ে বিজয় মিছিল নিয়ে আবারো রাজপথে নামলেন শামীম ওসমান। শামীম ওসমানের নেতৃত্বে লাখো মানুষের এই বিজয় মিছিলে গতকাল শনিবার নারায়ণগঞ্জের রাজপথ ছিল উত্তাল। গতকাল দুপুরের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বাদ্য বাজনাসহকারে শামীম ওসমানের ব্যানার ফেস্টুনসহ সভাস্থলে হাজির হন।
বিজয় মিছিলের পূর্বে শহরের চাষাঢ়া নবাব সলিমুল্লাহ রোডে জনসভায় দেয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে শামীম ওসমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল শক্তিকে এক কাতারে আসতে হবে। দলের বাইরেও কোটি কোটি সাধারণ মানুষ আছেন যারা আমাদের চেয়ে বেশি দেশটাকে ভালোবাসেন। তাদের সবাইকে এক মঞ্চে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের শক্তির এক মঞ্চে আসা ছাড়া এ মুহূর্তে আর কোন বিকল্প পথ খোলা নেই। তিনি বলেন, বিরোধী দলের নেত্রীর উপস্থিতিতে যখন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি দেয় তখন হাত গুটিয়ে বসে থাকা যায় না। দেশে প্রথমবার জামায়াত শিবির জঙ্গীবাদ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের বিরুদ্ধে কথা বলে বোমা হামলার শিকার হয়েছিলাম। আমি বলে দিতে চাই, শামীম ওসমানের উপর আরও ১০ বার বোমা হামলা করা হলেও রাজাকার যুদ্ধাপরাধীরে জঙ্গীবাদের সাথে সে কোন আঁতাত করবে না।
বক্তব্যের শুরুতেই শামীম ওসমান সাভারের তাজরীন গার্মেন্টসে নিহতদের স্মরণে শোক প্রকাশ করেন।
বিজয় মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক প্রবীণ নেতা মফিজুল ইসলাম। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ জেলা ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি চন্দন শীল, জেলা পরিষদের প্রশাসক আব্দুল হাই, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আনিসুর রহমান দীপু, শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খোকন সাহা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার সামিউল্লাহ মিলন, নাসিকের কাউন্সিলর নূর হোসেন, ফতুল্লা থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফ উল্লাহ বাদল, সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী, বন্দর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশীদ, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম সাগর, মহিলা আওয়ামী লীগ নেত্রী প্রফেসর শিরীন বেগম, ইসরাত জাহান স্মৃতিসহ প্রমুখ বিজয় মিছিল ও সভায় অংশগ্রহণ করেন।
