চিকিত্সকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিতরা সভাপতি, মহাসচিব, কোষাধ্যক্ষসহ বিপুল ভোটের ব্যবধানে পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি পদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ও বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা: মাহমুদ হাসান এবং মহাসচিব পদে একই প্যানেলের স্বাচিপের (স্বাধীনতা চিকিত্সক পরিষদ) মহাসচিব অধ্যাপক ডা:ইকবাল আর্সলান বিজয়ী হয়েছেন। সভাপতি পদে অধ্যাপক মাহমুদ হাসান পেয়েছেন ১৫ হাজার ৯৯৮ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের সভাপতি পদপ্রার্থী অধ্যাপক ডা: একেএম আজিজুল হক পেয়েছেন ৮ হাজার ২৭৩ ভোট। ডা: মাহমুদ হাসান সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য পুন:নির্বাচিত হলেন। মহাসচিব পদে অধ্যাপক ডা: ইকবাল আর্সলান পেয়েছেন ১৪ হাজার ৯৫৫ ভোট এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের অধ্যাপক ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেন পেয়েছেন ৮ হাজার ৮৭০ ভোট। গতকাল বিএমএ ভবনে নির্বাচন কমিশনার ডা:আব্দুর রহমান খান এই ফলাফল প্রকাশ করেন। এ সময় নির্বাচন কমিশন সচিব অধ্যাপক ডা: সাখাওয়াত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, কারচুপি, অনিয়ম, প্রভাব বিস্তার ও ভয়ভীতির অভিযোগ এনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেল বিএমএ নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি সমর্থিত প্যানেলের মহাসচিব পদের প্রার্থী অধ্যাপক ডা:এজেডএম জাহিদ হোসেন নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এ নির্বাচন বাতিলের দাবি জানান। তিনি দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনে অনিয়মের নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাতিল না করা হলে চিকিত্সকদের নিয়ে তিনি আন্দোলন গড়ে তুলবেন। তবে নির্বাচন কমিশন সচিব ডা: একেএম সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, গত ২৯ নভেম্বর বৃহস্পতিবার নির্বাচন অনুষ্ঠানের দিন মধ্যরাত পর্যন্ত অধ্যাপক ডা: একেএম আজিজুল হক ও অধ্যাপক ডা: এজেডএম জাহিদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন প্যানেলের পক্ষে নির্বাচনে অনিয়ম, কারচুপি অথবা প্রভাব বিস্তারের কোন অভিযোগ আনা হয়নি। এদিকে, গত বৃহস্পতিবার বিএমএ নির্বাচন অনুষ্ঠানের দু’দিন পর গতকাল শনিবার ডা: আজিজ-ডা:জাহিদ প্যানেলের পক্ষে তাদের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ডা:মো:আব্দুল কুদ্দুস প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিতভাবে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপন করেন।
বিএমএর নির্বাচনে সভাপতি, সহ-সভাপতি (ঢাকা সিটি), সহ-সভাপতি (প্রত্যেক বিভাগে ১টি), মহাসচিব ১টি, কোষাধ্যক্ষ ১টি, সাইন্টিফিক সেক্রেটারি ১টি, অফিস সেক্রেটারি ১টি, প্রচার সম্পাদক ১টি, সমাজ কল্যাণ ১টি, সাংস্কৃতিক সম্পাদক ১টি, প্রকাশনা সম্পাদক ১টি, আন্তর্জাতিক সম্পাদক ১টি, নির্বাহী পরিষদের সদস্য ২১টি পদের সব কটিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। তবে ঢাকা সিটির ১৩৪টি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের পদের মধ্যে বিএনপি সমর্থিত ডা:আজিজ-ডা:জাহিদ প্যানেল ৩৪টি পদে নির্বাচিত হন। তবে এই প্যানেলটি কার্যকরী পরিষদের কোন পদে বিজয়ী হতে পারেনি।
বিএমএ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ডা: মাহমুদ হাসান ও ডা: ইকবাল আর্সলান প্যানেলের নির্বাহী পরিষদে অন্যান্য পদে বিজয়িগণ হচ্ছেন- মো: আব্দুর রউফ সরদার, সহ-সভাপতি (ঢাকা মহানগর), কামরুল হাসান খান, সহ-সভাপতি (ঢাকা বিভাগ), মু. কামরুল হাসান (সেলিম), সহ-সভাপতি (বরিশাল বিভাগ), মো:মহসিনুজ্জামান চৌধুরী, সহ-সভাপতি (চট্টগ্রাম বিভাগ), শেখ বাহারুল আলম, সহ-সভাপতি (খুলনা বিভাগ), মো: তবিবুর রহমান শেখ, সহ-সভাপতি (রাজশাহী বিভাগ), রোকেয়া সুলতানা, সহ-সভাপতি (রংপুর বিভাগ), মো:ইহতেশামুল হক চৌধুরী (দুলাল), সহ-সভাপতি (সিলেট বিভাগ), এহসানুল কবির জগলুল, কোষাধ্যক্ষ, মো: আব্দুল আজিজ, যুগ্ম মহাসচিব, উত্তম কুমার বড়ুয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক, মো: কামরুল হাসান (মিলন), বিজ্ঞান বিষয়ক সম্পাদক, চিত্র রঞ্জন দাস, দপ্তর সম্পাদক, মোল্লা মিজানুর রহমান কল্লোল, প্রচার ও জনসংযোগ সম্পাদক, সোহেল মাহমুদ, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, নীহার রঞ্জন সরকার, সাংস্কৃতিক ও আপ্যায়ন সম্পাদক, আহসান হাবীব হেলাল, গ্রন্থাগার ও প্রকাশনা সম্পাদক, মো: আবুল হাসেম খান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। এছাড়া কার্যকরী পরিষদে মাহমুদ হাসান। সদস্য পদে নির্বাচিত চিকিত্সকগণ হচ্ছেন, মো: মনিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মো: মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (আঙ্গুর), মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী, এএসএম জাকারিয়া স্বপন, এম নজরুল ইসলাম, মোসাদ্দেক আহমেদ, দেবেশ চন্দ্র তালুকদার, মো: মুনীরুজ্জামান সিদ্দিকী, মো: তারিক মেহেদী পারভেজ, মো: আবু ইউসুফ ফকির, শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন, কনক কান্তি বড়ুয়া, মো: আব্দুল আজিজ, কেএম শফিউল আলম বাদশা, অনুপ কুমার সাহা, মো: জাহাঙ্গীর আলম, চৌধুরী মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, মোস্তাক আহম্মদ (প্রতীক), শেখ মো:শফিউল আযম ও নাসির উদ্দিন মাহমুদ।
