দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা অর্থের মধ্যে ২০ লাখ ৪১ হাজার সিঙ্গাপুরী ডলার ( প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি টাকা) সরকার দেশে ফিরিয়ে এনেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান যে বক্তব্য দিয়েছেন তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে বিএনপি। দলটি দাবি করেছে, দুদকের উদ্ধার করা অর্থ আরাফাত রহমান কোকোর নয়। জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দুদক চেয়ারম্যান এমন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন।
গতকাল শনিবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দুদক যে টাকা উদ্ধারের কথা বলছে সেই টাকা বাংলাদেশ থেকে সিঙ্গাপুর যায় নাই। আমেরিকার নিউইয়র্ক থেকে ‘ব্যাংক টু ব্যাংক’ ট্রান্সফারের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের জাজ কোম্পানির একাউন্টে জমা হয়েছে। ওই কোম্পানির সাথে আরাফাত রহমান কোকোর কোনো প্রকার সংশ্লিষ্টতা কখনও ছিলো না।
মির্জা ফখরুল বলেন, এজাহারে বলা হয়েছে ওই ২০ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার সিঙ্গাপুরের ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংকে ২০০৭ সালের ১৬ নভেম্বর জমা এবং ফিক্সড ডিপোজিট করা হয়েছে। এর আড়াই মাস আগে ৩ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়া ও আরাফাত কোকোকে তত্কালীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে আটক করা হয়। জেলখানা থেকে কোকোর পক্ষে ব্যাংক লেনদেন করা সম্ভব নয় বলে তিনি দাবি করেন। ফখরুল বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময় দায়ের হওয়া মামলাগুলো মিথ্যা—এই বক্তব্য দেয়ার ৩ দিন পর দুদক চেয়ারম্যান দাবি করেন সিঙ্গাপুর ইউনাইটেড ওভারসিজ ব্যাংক থেকে কোকোর পাচার করা ২০ লাখ সিঙ্গাপুরী ডলার উদ্ধার করে দেশের সোনালী ব্যাংকে একাউন্ট খুলে রাখা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সোনালী ব্যাংকের এমডি সাহেব সাংবাদিকদের বলেছিলেন এই বিষয়ে তিনি বেশি কিছু জানেন না। কোথা থেকে কত টাকা এসেছে সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কিছু বলতে পারেন নাই । কোকোর কোন একাউন্ট থেকে অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে—দুদক চেয়ারম্যানের প্রতি এমন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, দুদক মিডিয়ার সামনে অসত্য তথ্য পরিবেশন করেছে।
মির্জা ফখরুল বলেন, একটি মামলার রায়ে কোকোকে ৬ বছর জেল দেয়া হয়েছে। কোকোর এই মামলা এবং দণ্ড সম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থি। তিনি বলেন, যে শর্তে প্যারোলে মুক্তি দেয়া হয়েছিলে সে সকল শর্ত মেনে চলার পরও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মান-সম্মানের তোয়াক্কা না করে নিম্ন আদালতে নিজে উপস্থিত হয়ে কোকোর জামিন বাতিল করিয়েছেন; যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল এবং সম্ভবত একমাত্র ঘটনা। কোকোর মামলার ক্ষেত্রে সিআরপিসি এবং আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়নি অভিযোগ করে তিনি বলেন, কোকো দেশে ফিরে এলে সিআরপিসির ১৮৮ সেকশন কেন অনুসরণ করা হয়নি সে বিষয়ে রিট আবেদন করা হবে।
সাংবাদিক সম্মেলনের শুরুতেই ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিতদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম-মহাসচিব আমানউল্লাহ আমান, রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
‘বিএনপির কর্মসূচি যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে নয়’
এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে নয় জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। গতকাল সকালে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের ১৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল একথা বলেন। ২৮ নভেম্বর ঘোষিত কর্মসূচিগুলো বিএনপির ‘রুটিন কর্মসূচি’ বলে তিনি দাবি করেন। এ সময় সংগঠনটির সভাপতি শামা ওবায়েদসহ নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
