বার্নার্ড কলেজ সমাবর্তন ২০০৯

হিলারি রডহ্যাম ক্লিনটন

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৮
এযুগের কূটনীতি চালিত হচ্ছে ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগ ও অবিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে। এবং এখানেই রয়েছে নারীদের সুযোগ— উন্নত শিক্ষা, নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আবিষ্কার দিয়ে এই বিষয়গুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত ও পরিচালিত করা যেভাবে আগের প্রজন্মের মানুষেরা কখনো পারেনি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের এত গুরুত্ববহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পেরে আমি উচ্ছ্বসিত। আমি সেইসব শিক্ষার্থীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই যারা খুব চমত্কারভাবে তাদের অনুভূতি ও উচ্চাশাকে তুলে ধরেছে। আমরা বর্তমানে নারীদের অপার সম্ভাবনা ও অর্জনের যুগে বাস করছি। নারীরা এখন সরকারি উচ্চপদসহ শিক্ষা, খেলাধুলা ও সকল ক্ষেত্রে নিজেদেরকে নতুন করে তুলে ধরছে প্রতিনিয়ত। যখন আমি স্নাতক সম্পন্ন করি তখন কূটনীতি মূলত বন্ধ দরজার আড়ালে থাকা বিশেষজ্ঞদের কাজ ছিল যাদের অধিকাংশই ছিল পুরুষ। তাদের কার্যক্রমের খুব সামান্য অংশই আমরা দেখতে বা বুঝতে পারতাম। কিন্তু এখন কূটনীতি আর শুধু রাষ্ট্রীয় বিভাগ এবং বিশেষজ্ঞদের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বায়নের এই যুগে কূটনীতি সর্বক্ষেত্রে- প্রত্যন্ত প্রামে, ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে, শ্রেণীকক্ষে, হাসপাতালে, ছাত্রাবাসে। এযুগের কূটনীতি চালিত হচ্ছে ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগ ও অবিচ্ছিন্নতার মাধ্যমে। এবং এখানেই রয়েছে নারীদের সুযোগ— উন্নত শিক্ষা, নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আবিষ্কার দিয়ে এই বিষয়গুলোকে এমনভাবে প্রভাবিত ও পরিচালিত করা যেভাবে আগের প্রজন্মের মানুষেরা কখনো পারেনি। কিন্তু এই সুযোগের সাথে সাথে তোমাদের উপর কিছু দায়িত্বও বর্তায়, কারণ কূটনীতির এই নতুন যুগে প্রয়োজন বৈশ্বিকভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি— প্রত্যেকের প্রচেষ্টায় সবচেয়ে জরুরি সমস্যাগুলোর সমাধান করা। তোমার দক্ষতা ও মেধাকে কাজে লাগাও ভবিষ্যেক গঠন ও পুনর্গঠনের কাজে। আমি একটা বিশেষ ক্ষেত্রের কথা বলতে চাই যেক্ষেত্রে তোমাদের অবশ্যই কাজ করা উচিত, আর সেটা হল বিশ্বজুড়ে নারীদের সমস্যাবলি। শক্তিশালী কণ্ঠ ও মূল্যবোধের অধিকারী হওয়ার যে সুযোগ তুমি পেয়েছ তোমাদের শিক্ষার মাধ্যমে তাকে কাজে লাগাও বিশ্বব্যাপী সেসব নারীদের জন্য কাজে লাগাতে যাদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার তোমার আমার স্বপ্ন-আশার মতই মূল্যবান কিন্তু তারা তোমাদের মত এমন যোগ্যতা অর্জন করার সুযোগ পায়নি। গত কয়েক দশকে বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে আমি বুঝেছি বিশ্বজুড়ে মেধা যেমন সমানভাবে ছড়িয়ে আছে কিন্তু সুযোগ তেমনভাবে নেই। এইসব নারীর ভবিষ্যত্ তোমার-আমার ভবিষ্যতের উপরও প্রভাব ফেলবে। সুতরাং এ সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা শুধু ঠিক কাজই নয়, বরং বুদ্ধিমানের কাজও বটে। সরকার, প্রতিষ্ঠান বা সমাজ স্বীকার না করলেও এটা সত্যি যে, আমরা প্রতিদিন যেসব সমস্যার সম্মুখীন হই তার অসম একটা বোঝা বহন করে নারীরা। বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার ফলে দারিদ্র্যের মাঝে বসবাসকারী নারীরা আরো গভীরভাবে দারিদ্র্যে নিমজ্জিত হচ্ছে, যেখানেই খাদ্যাভাব সেখানেই সাধারণত মেয়েরা সবার শেষে অবশিষ্টাংশ খেতে পায়, যেকোন যুদ্ধ ও সংঘর্ষের বলি হিসেবে নারীরাই বেশি করে নির্যাতিত ও উদ্বাস্তু হয়, অনেক স্থানে মেয়েদেরকে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়, এমনকি নির্যাতনও করা হয় যদি তারা স্কুলে যেতে চায়। যদি তুমি জানতে চাও একটি দেশ কতটুকু স্থিতিশীল, স্বাস্থ্যকর এবং গণতান্ত্রিক তবে সেদেশের নারীদের দিকে তাকাও, মেয়েদের দিকে তাকাও। নারীদের উন্নয়নে গতি এসেছে, অনেক পরিবর্তন এসেছে কিন্তু এখনো নারীদেরকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। কিন্তু আমাদের হাতে এখন একুশ শতকের নানা প্রযুক্তি রয়েছে এর মোকাবেলা করার জন্য। সামাজিক যোগাযোগ প্রযুক্তির সাহায্যে এখন তুমি সবাইকে এও জানাতে পারো যে, তুমি কফি পান করতে যাচ্ছো, আবার এর সাহায্যে তুমি মানবপাচার ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে লড়াইও করতে পারো। এখানে বার্নার্ডে তোমরা শিখেছ যে, আমাদের মাঝে অনেক ভিন্নতা থাকলেও আমরা সবাই এক সূত্রে গাঁথা। এখন তোমাদের যে প্রশ্নটা নিজেকে করতে হবে তা হল, ‘আমি কি করতে পারি সবার জন্য?’ যেভাবেই আমরা এই সমাবর্তন পর্যন্ত আসি না কেন আমরা জানব এখানে এমন কিছু স্নাতক উপস্থিত রয়েছে যারা শুধুমাত্র নিজের স্বপ্নই পূরণ করতে জানে না বরং অন্যদেরকেও নিজেদের স্বপ্নে শামিল করে নেয়। এখন এমন অনেক কিছু করার সুযোগ রয়েছে যা হয়ত অনেক বছর আগে এই স্থানে থাকার সময় আমি ভাবতেও পারিনি। বিশ্বের সব মানুষকে সাহায্য করাটাই তোমার একমাত্র কাজ হতে হবে না, কিন্তু আমি তোমাদেরকে অনুরোধ করছি এটাকে তোমাদের কাজের একটা অংশ হিসেবে রাখতে। আশা করি তোমাদের জীবন এমন একটা রোমাঞ্চকর অভিযান হোক যেখানে তোমরা বুঝতে পারো তোমাদের যে সম্পদ আছে তা দিয়ে তোমরা কত কি করতে পারো এবং সেই ধরনের আদর্শ জীবন বাস্তবায়িত করতে পারো যা তোমরা বিশ্বাস করো। সূত্র: ইন্টারনেট