নারী নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ

আর নয় নারী নির্যাতন

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ১৯:৩৯
‘নারী নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে প্রতিপাদ্য করে, জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউএন-উইমেন এ বছর ২০ নভেম্বর প্রথমবারের মতো দেশের তরুণ প্রজন্মের আঁকা নির্বাচিত কিছু পোস্টার নিয়ে আয়োজন করেছে দেশজুড়ে পোস্টার ডিজাইন প্রতিযোগিতা। নারীর সামাজিক অবস্থান সৃষ্টি, নারীর প্রতি মূল্যেবোধ, যৌন হয়রানি বন্ধ, এসিড সন্ত্রাস দমন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ, নারীর প্রতি প্রতিহিংসা দূরীকরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ইস্যুতে দেশের তরুণ সমাজ কী ভাবছে তাকে কেন্দ্র করে এই প্রদর্শনী। সেদিন ১৫ জন বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার ও সনদ প্রদান করেন স্বনামধন্য শিল্পী রফিকুন-নবী, সকোরা রেয়াস, শিল্পী রোকেয়া সুলতানা প্রমুখ। নারী নির্যাতন প্রতিরোধে ৫ জন বিজয়ী তাদের মতামত জানান। তাদের সাথে কথা বলে আজকের মূল প্রতিবেদনটি লিখেছেন— মরিয়ম চম্পা নারীরা আজ মুক্ত সাবরিনা শরীফ (প্রথম শ্রেণী) বড় ভাইয়ের জন্য মাকে পোস্টার প্রদর্শনীর আর্ট পেপার আনতে দেখে সেও বায়না ধরে। পরে মা তাকে একটা ছেঁড়া পৃষ্ঠা দিলে তাতে সে এঁকে ফেলে মেয়ে পাইলট, পুলিশ, ডাক্তারসহ বিভিন্ন ধরনের ছবি। অবশেষে তার ভাইয়ের পরিবর্তে তার পোস্টারটিই নির্বাচিত হয় পুরস্কারের জন্য। অবশ্য সাবরিনা আড়াই বছর বয়স থেকেই আঁকাজোঁকায় পেয়েছেন অনেক পুরস্কার। নারী নির্যাতন কী সে বোঝে না, তবে ওর ভাষায় মায়ের সাথে গ্রামে গিয়ে দেখেছে এক কাকু তার বউকে চুলের মুঠি ধরে লাঠিপেটা করেছে। ওর পোস্টারের ভাষা হচ্ছে নারীরা আজ মুক্ত। আর না! ঈশিতা রহমান (ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়) পুরুষের প্রতিহিংসার শিকার সমাজের অধিকাংশ নারী। এটা শিক্ষিত, কম শিক্ষিত উভয় ক্ষেত্রেই হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোমানা রহমানের উপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল তা কেবল তার স্বামীর প্রতিহিংসার কারণেই। ঈশিতার পোস্টারের ভাষা হচ্ছে, নারী নির্যাতন আর না! আজ নারীরা মুক্ত বিহঙ্গের ন্যায় উড়তে শিখেছে। শিখেছে মাথা তুলে দাঁড়াতে, আর হাত তুলে প্রতিবাদ করতে। নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করুন সিদরাতুল আফিয়া (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) নারী নির্যাতন বন্ধে নারীর প্রতি পুরুষদের শ্রদ্ধাশীল এবং অনেক সচেতন হতে হবে। না হলে আজ যে পুরুষের দু’হাত একজন নারীকে নির্যাতন করবে, ভবিষ্যতে তার বোন বা কন্যার বেলাতে অন্য কারোর চার হাত অপেক্ষা করছে। তাই নারী নির্যাতন বন্ধে পারিবারিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তবেই না সম্ভব নারী নির্যাতন প্রতিরোধ করা। আসুন নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই দেবশ্রী মন্ডল (মিরপুর) নিজ ঘর থেকে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। একজন নারী নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়ে থাকে। হতে পারে সেটা কর্মক্ষেত্র কিংবা নিজ গৃহে। পূর্বে কোন স্ত্রীকে স্বামী দরজা বন্ধ করে পেটালে তার প্রতিবেশি ভাবতো যে, এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু এখন নারী নির্যাতন আর কারোর ব্যক্তিগত পর্যায়ে নেই। প্রয়োজনে ঘরে ঘরে কলিং বেল বাজানো প্রচারণার মাধ্যমে নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। আমরা পারবই, নারী নির্যাতন রুখবোই জাকিয়া শবনম (ইডেন কলেজ) এই যুগে নারী নির্যাতন মানে, সভ্যতার আদিম যুগের পরিচয়। কারণ এখন সভ্যতার পরিবর্তনের সাথে সাথে যুগেরও অনেক পরিবর্তন হয়েছে। এক্ষেত্রে পুরুষরা যদি শিশু বয়স থেকে প্রাথমিক শিক্ষাটা পায় যে, নারী মানে আজ যিনি আমার মা কাল স্ত্রী, পরবর্তীতে আমারই কন্যা। কাজেই নির্যাতনটা আমি কাকে করবো। এতে করে নারীর প্রতি পুরুষের শ্রদ্ধা জন্মাবে। আর আমরা তরুণরাই পারবো এই নির্যাতনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে। এর জন্য দরকার পোস্টারের পাশাপাশি সামাজিক, প্রশাসনিক ও মিডিয়ার তৃণমূল সহায়তা আর প্রচারণা।