শুধুমাত্র সারা বিশ্বের অসংখ্য ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু আর অসংখ্য বানিজ্যিক ব্যস্ততার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই নয়, বরং একই সাথে বিশ্বের অন্যতম অপরাধপ্রবণ শহর হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে নিউইয়র্কের। ঘণ্টা প্রতি সহিংসতার হারের দিক থেকে বিশ্বের অনেক শহরের চাইতে বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকা নিউইয়র্কে নানা অপরাধের ঘটনাও তাই নতুন কিছু নয়। তবে বিশ্বের সবেচেয়ে অপরাধপ্রবণ এই শহরের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাওয়া পুলিশ বিভাগের জন্য গেল সপ্তাহের সোমবার দিনটি যেন একটু অন্যরকম হয়েই এসেছিল। আর অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, নিকট অতীতে যেটি কখনোই ঘটেনি ঠিক তেমনই একটি ঘটনা হিসেবে এদিন অপরাধমুক্ত একটি দিন (২৪ ঘণ্টা) কাটিয়েছে নিউইয়র্ক। এ সময়ের মধ্যে কোনো ধরনের খুন, রক্তপাত, গুলিবর্ষণ বা ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেনি গোটা নিউইয়র্কের কোনো স্থানে। অথচ এ বছরের জুলাই মাসেই হত্যা বা খুনের ঘটনা এতটা বেড়ে গিয়েছিল যে কিছু কিছু সংবাদমাধ্যম একে ‘রক্তাক্ত গ্রীষ্ম’ নামেও অভিহিত করেছিল। তবে তারপর থেকেই আস্তে আস্তে কমতে থাকে খুনের ঘটনা এবং যে ধারায় এটি কমেছে তাতে নিউইয়র্কের জন্য ১৯৬০ সালের পর থেকে এ ধরনের অপরাধের সবচেয়ে কম হার অর্জনের দিকেও ইঙ্গিত দিচ্ছে। গতবছর যেখানে এই সময়ের মধ্যে মোট ৪৭২টি খুনের ঘটনা ঘটেছিল সেখানে এ বছর সে তুলনায় ৩৬৬ জন খুন হন, যা আগের চাইতে শতকরা ২৩ ভাগ কম এবং গেল পঞ্চাশ বছরের মধ্যেও তা সর্বনিম্ন। এমনকি অপরাধ বিশেষজ্ঞরাও বলছেন যে খুনের ঘটনা এখনও উল্লে¬খযোগ্য পরিমাণে ঘটলেও ৮০ লক্ষ মানুষ অধ্যুষিত আমেরিকার একটি শহরের জন্য তা তুলনামূলক কম। কেননা শিকাগো আর ইলিনয়েসের মতো ২৭ লক্ষ লোকের শহরেও এ সময়ে এরচেয়ে বেশি সংখ্যক ৪৬২টি খুন হয়েছে। যদিও খুনের ঘটনা কমলেও সামগ্রিকভাবে এই সময়ে অন্যান্য অপরাধের প্রবণতা শতকরা ৩ ভাগ পর্যন্ত বেড়েছে।
