সরকারের অভ্যন্তরীণ অর্থায়নের বড় উত্স সঞ্চয়পত্র বিক্রির খরা কাটছে না। বিনিয়োগকারীরা যা জমা দিচ্ছেন সঞ্চয়পত্র ভাঙ্গিয়ে উঠিয়ে নিচ্ছেন প্রায় তার সমান। চলতি ২০১২-১৩ অর্থ বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়ে নীট জমা হয়েছে ৫১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। আলোচ্য সময়ে ৭ হাজার ৯৩৪ কোটি টাকা জমার বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে ৭ হাজার ৪২২ কোটি টাকা। একই সময়ে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ২ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা।
আর একক মাস হিসেবে গত অক্টোবর মাসে ১ হাজার ৯৩৬ কোটি টাকা জমার বিপরীতে উত্তোলন হয়েছে ১ হাজার ৮৭৮ কোটি টাকা। অর্থাত্ নীট জমা হয়েছে ৫৮ কোটি টাকা। আলোচ্য সময়ে সুদ পরিশোধ করা হয়েছে ৬২০ কোটি টাকা।
চলতি অর্থ বছরে সরকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে ৭ হাজার ৪০০ কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। সেই বিবেচনায় চার মাসে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়ার কথা। বিক্রি হয়েছে ৫১১ কোটি টাকা। অর্থাত্ চার মাসে লক্ষ্যমাত্রার মাত্র এক-পঞ্চমাংশ অর্জন করা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ক্রমাগত মূল্যস্ফীতি আর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না হওয়ায় এ খাতের ধস নামার মূল কারণ। সেই সাথে সঞ্চয়পত্রের মুনাফায় উেস কর কর্তনও বড় কারণ বলে মনে করছেন তারা।
গত মার্চ মাস থেকে সুদের হার কিছুটা বাড়িয়েছে সরকার। পরিবার, পেনশনার, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র, ডাকঘর ও পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১ শতাংশ থেকে ক্ষেত্র বিশেষে তিন শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, পরিবার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ৪৫ শতাংশ, পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে সুদহার ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বিদ্যমান রয়েছে। তবে এ খাতে মুনাফার উপর উেস কর ৫ শতাংশ স্থির রয়েছে। এছাড়া বিক্রি বাড়াতে প্রচারণায়ও মনযোগ দিয়েছে জাতীয় সঞ্চয় পরিদপ্তর। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সুদের হার বাড়ালেও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান সুদের হারের সাথে প্রতিযোগিত করার জন্য যথেষ্ট নয়। ফলে বিক্রিও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বাড়ানো যাচ্ছে না
