কমিটি ছাড়াই চলছে কুমিল্লা যুবলীগ

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২০:৪৮
প্রায় ৬ মাস যাবত্ কমিটি ছাড়াই চলছে কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা যুবলীগ। নতুন কমিটি গঠন না করেই পুরনো কমিটি ভেঙ্গে দেয়ায় এখানে আওয়ামী লীগের অন্যতম সহযোগী এ সংগঠনটি নেতৃত্ব ও অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা যুবলীগের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। সেই থেকে পেরিয়ে গেছে ১৫টি বছর। এর মাঝে আর কোন কমিটি না হওয়ায় যুবলীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। জেলার আওয়ামী লীগ দলীয় শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দলাদলি, অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর নেতৃত্ব লাভের জন্য অসম প্রতিযোগিতা ও অস্থিতিশীল কর্মকাণ্ডের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের নেতা-কর্মীরা। জানা যায়, ১৫ বছর আগে গঠিত কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা যুবলীগের কমিটি চলতি বছরের গত ১৭ জুন কোন আহবায়ক কমিটি গঠন ছাড়াই ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। ফলে বর্তমানে এখানে কমিটিবিহীন যুবলীগ একদিকে যেমন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে, তেমনি নেই কোন বৈধ নেতা। আর তাই যুবলীগ ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠান বা সভা-সমাবেশে পরিচয় দিচ্ছেন ‘জেলা যুবলীগ নেতা’ ও ‘মহানগর যুবলীগ নেতা’ হিসেবে। উল্লেখ্য, গত ১৮ নভেম্বর যুবলীগের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কুমিল্লায় পালিত হয় দায়সারাভাবে। কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা যুবলীগের কমিটিতে পদ পেতে আগ্রহী এমন নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ‘শাহিনুল ইসলাম শাহীনকে সভাপতি ও মঞ্জুর মোর্শেদকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৯৯৭ সালে কুমিল্লা টাউন হলে সম্মেলনের মাধ্যমে ৬৭ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কথা ছিল দুই বছর পরপর আবার সম্মেলন করে নতুন কমিটি করা হবে। কিন্তু জেলা (দক্ষিণ) আওয়ামী লীগে একাধিক গ্রুপিং এবং তাদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় অনুগতদের নেতৃত্বের হিস্যা, দলাদলি ও কোন্দলের প্রভাবে নতুন কমিটি ছাড়াই খুঁড়িয়ে চলছে কুমিল্লা (দক্ষিণ) জেলা যুবলীগ।’ দলীয় সূত্রগুলো জানায়, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মজিব এমপি, সদরের এমপি আকম বাহাউদ্দিন ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ আফজল খান এডভোকেট—এই তিন ধারায় বিভক্ত জেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির প্রভাব পড়ছে যুবলীগ ও ছাত্রলীগসহ দলের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনে। এসব বিভক্তি আর দ্বন্দ্ব মাঝে-মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষে রূপ নেয়। এমন নেতিবাচক প্রভাবের ফলে গত ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অধ্যক্ষ আফজল খানকে পরাজয়বরণ করতে হয়। আর তাই মন্ত্রী এবং এমপি গ্রুপের সম্ভাব্য পদ প্রত্যাশীরা কেন্দ্রে লবিং করতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। কমিটির বিষয়ে বিদায়ী কমিটির একাধিক নেতা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটি পূর্ণাঙ্গ না হওয়ায় আমাদের কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে। এদিকে, সংগঠনকে উজ্জীবিত করতে অবিলম্বে জেলা ও মহানগর যুবলীগের সম্মেলন করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন দলের নেতা-কর্মীরা। নাম প্রকাশ না করে তারা বলছেন, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, চোরাকারবারি, সংগঠন-প্রতিষ্ঠান দখল ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী হিসাবে বিতর্কিত এবং দলীয় গ্রুপিং ও সমর্থক নেতার আশীর্বাদে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে রাতারাতি অঢেল টাকা, বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি ও সম্পদের মালিক হওয়া ব্যক্তিদের প্রাধান্য না দিয়ে সকলের অংশগ্রহণে রাজনৈতিক অঙ্গনে ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন চরিত্রের নেতাদের সমন্বয়ে কমিটি করা হলে কুমিল্লায় যুবলীগ আবারো চাঙ্গা হবে।