আজ ঠাকুরগাঁও হানাদার মুক্ত দিবস। ঠাকুরগাঁও ছিল তখন মহকুমা। বর্তমান ঠাকুরগাঁও এবং পঞ্চগড় জেলার ১০টি থানাই ছিল এ মহকুমার অন্তর্গত। উল্লেখ্য, এদিন সকাল থেকেই ঠাকুরগাঁও শহরসহ সন্নিহিত এলাকায় মানুষ জড়ো হতে থাকে। শহরের বিভিন্ন রাস্তায় বের হয় আনন্দের মিছিল। স্বাধীন বাংলাদেশের জয়ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে ঠাকুরগাঁও শহর।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদাররা ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠাকুরগাঁওয়ের সহজ সরল মানুষের ওপর। এ সময় হানাদাররা গ্রামে গ্রামে নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণ, লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ চালায়। এরপর ১৫ এপ্রিল আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত পাকবাহিনীর দখলে চলে যায় ঠাকুরগাঁও।
এরই মধ্যে সুসংগঠিত হতে থাকে ঠাকুরগাঁওয়ের মুক্তিকামী মানুষ। ঠাকুরগাঁও তখন ছিল ৬ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। কমান্ডার ছিলেন বিমান বাহিনীর স্কোয়াড্রন লিডার এম খাদেমুল বাশার। এ সেক্টরে প্রায় ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
২৯ নভেম্বর এ মহকুমার পঞ্চগড় থানা প্রথম শত্রুমুক্ত হয়। পঞ্চগড় হাতছাড়া হওয়ার পর পাকবাহিনীর মনোবল ভেঙে যায়। এরপর তারা প্রবেশ করেন ঠাকুরগাঁওয়ে।
২ ডিসেম্বর রাতে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রচণ্ড গোলাগুলি শুরু হয়। ওইরাতেই শত্রুবাহিনী ঠাকুরগাঁও থেকে পিছু হটে ২৫ মাইল নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ৩ ডিসেম্বর ভোরে ঠাকুরগাঁও শহর শত্রুমুক্ত হয়। এদিকে বরগুনা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি জানান, আজ ৩ ডিসেম্বর। বরগুনার ইতিহাসে স্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এদিনে বরগুনাবাসী হানাদার মুক্ত হয়। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর বরগুনার মুক্তিকামী সহস্রাধিক তরুণ বাঁশের লাঠি, গুটি কয়েক রাইফেল ও বন্দুক নিয়ে প্রশিক্ষণ শুরু করে। এরই মধ্যে পাকবাহিনী দুর্বল প্রতিরোধকে উপেক্ষা করে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী জেলা দখল করে ফেলে। পরে পাকবাহিনী বিনা বাধায় বরগুনা শহর দখল করে। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বরগুনার বিভিন্ন থানা ও তত্কালীন মহাকুমা সদরে পাকবাহিনী অবস্থান করে পৈশাচিক নারী নির্যাতন ও গণহত্যা চালায়। ২৯ ও ৩০ মে বরগুনা জেলখানায় ৭৬ জনকে গুলি করে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধারা ৭১-এর ২ ডিসেম্বর বরগুনা বেতাগী থানার বদনীখালী বাজারে আসেন। রাত তিনটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা খাকদোন নদীর পোটকাখালী স্থানে অবস্থান নেন। অবস্থান অনুযায়ী শীতের সকালে ফজরের আজানকে যুদ্ধ শুরুর সংকেত হিসেবে ব্যবহার করেন। আজান শুরুর সাথে সাথে ৬টি স্থান থেকে একযোগে ফায়ার করেন। দ্বিতীয় দফায় তারা জেলখানার দিকে এগোতে থাকেন। দুপুর বারোটার দিকে মুক্তিযোদ্ধারা প্রশাসনিক দায়িত্ব এসডিওকে বুঝিয়ে দিয়ে অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে বুকাবুনিয়া সাব-সেন্টারে চলে যান।
বরগুনায় হানাদার মুক্ত দিবস পালন উপলক্ষে বরগুনা প্রেসক্লাব, জেলা প্রশাসন, সাগরপাড়ী খেলাঘর আসর র্যালি গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ ও আলোচনার সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া লোকবেতার সমপ্রচার করবে বিশেষ অনুষ্ঠান।
কোটালীপাড়া ( গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, আজ কোটালীপাড়ায় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়ে ছিলেন বিজয়ী মুক্তিযোদ্ধারা ।৭১ এর এই দিনে হেমায়েত বাহিনীর সাহসী যোদ্ধারা ৪২টি ভাগে বিভক্ত হয়ে, ঝটিকা আক্রমন চালায় পাক বাহিনীর ঘাটিগুলোতে।বেলা ১২টার মধ্যে পাক বাহিনী ও তাদের দোষরা ঘাটি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় ।এদিন খান সেনাদের দোররা, আত্মসমর্পণ করে এবং কেউ কেউ পালাতে গিয়ে জীবন হারায়।
