বনায়ন খাতে ৩০ হাজার শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৫
মালয়েশিয়ায় বনায়ন খাতে সরকারিভাবে প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক পাঠানো হবে। এ লক্ষ্যে সরকার চলতি মাসের শেষের দিকে সারাদেশে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করবে। মালয়েশিয়ার শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে চাহিদাপত্র পাঠানোর পরই শুরু হবে কার্যক্রম। শ্রমিক পাঠানো শুরু হবে আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে। গতকাল রবিবার প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এসব কথা বলেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. জাফর আহমেদ খান, বিএমইটির মহাপরিচালক বেগম শামসুন্নাহার ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ চার বছর বন্ধ থাকার পর আবার বাংলাদেশের জন্য উন্মুক্ত হলো মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। গত ২৬ নভেম্বর পুনরায় জনশক্তি রপ্তানির লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে বনায়ন খাতে পর্যায়ক্রমে মালয়েশিয়া সরকার ম্যানুফ্যাকচারিং, নির্মাণ, কৃষি ও সেবাখাতে কর্মী নিবে। সাংবাদিক সম্মেলনে জানানো হয়, মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য কর্মীর মেডিক্যাল চেকআপ, প্রশিক্ষণ ফি, ভিসা ফি, কল্যাণ ফি, বিমানভাড়া ইত্যাদি বাবদ অভিবাসন ব্যয় আনুমানিক ৪০ হাজার টাকা হবে। মালয়েশিয়ায় গমনেচ্ছু কর্মীরা মধ্যস্বত্বভোগী, দালাল কিংবা অসাধু কোন রিক্রুটিং এজেন্সির সঙ্গে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন বা যোগাযোগ করতে পারবে না। মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিকের থাকা, খাওয়া ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করবেন চাকরিদাতা। আর কর্মীর দেশে ফেরতের বিমানভাড়া দেবেন চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান। একজন শ্রমিক পথম পর্যায়ে ২ বছর, এরপর আরো ২ বছর এবং সবশেষে ১ বছর এই মোট ৫ বছর মালয়েশিয়ায় চাকরি করতে পারবেন। সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, বিএমইটির ওয়েব সাইটের মাধ্যমে অনলাইনে কর্মীদের রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে। বনায়ন খাতে কাজ করতে মালয়েশিয়ায় যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের যেসব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকতে হবে তা হলো:বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে, কৃষিকাজে অভিজ্ঞতা থাকতে হবে, বয়সসীমা ১৮-৪৫ বছরের মধ্যে হতে হবে, গ্রাম এলাকার প্রকৃত বাসিন্দা, কর্মীর উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট হতে হবে, ওজন কমপক্ষে ৫০ কেজি ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে হবে। সর্বনিম্ন ২৫ কেজি ওজনের মালামাল হাতে করে বহনের ক্ষমতা থাকতে হবে কর্মীর। তিনি আরও বলেন, প্রত্যেক জেলার কোটা নির্ধারণ করা হবে এবং আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কর্মীদের মালয়েশিয়ায় পাঠানো হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় জেলা কোটা পূরণ হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঐ জেলার রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি জানান, সফলভাবে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে সংশি¬ষ্ট কর্মী সাথে সাথেই রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ একটি কার্ড পাবেন। কার্ডে কর্মীর বাছাইয়ের জন্য নির্ধারিত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) নাম, স্থান ও তারিখ উলে¬খ থাকবে। দেশের ১৩টি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে এই বাছাই কর্যক্রম চলবে। প্রতিটি বাছাই কেন্দেব/উপ-সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তার নেতৃত্বে সংশি¬ষ্ট জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি, ডিইএমওর সহকারী পরিচালক এবং টিটিসির প্রিন্সিপালের সমন্বয়ে একটি সুপারভাইজিং কমিটি বাছাইকালীন সময় সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়াসহ ইউরোপ ও অন্যান্য উন্নত দেশে দক্ষ জনশক্তি প্রেরণ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রশিক্ষণ কেন্দ সমূহকে অস্ট্রেলিয়ার ‘টেকনিক্যাল এন্ড ফারদার এডুকেশনের (ট্যাফে)’ সাথে এফিলিয়েশনের জন্য ২৮ নভেম্বর ২০১২ তারিখে একটি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে বলে জানানো হয় এই সাংবাদিক সম্মেলনে।