জানুয়ারিতেই দেশের ১০ হাজার স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৬
আগামী বছরের জানুয়ারির মধ্যে দেশের ১০ হাজার মাধ্যমিক স্কুলে স্থাপিত হচ্ছে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম। তৈরি করা হচ্ছে ডিজিটাল কনটেন্ট (শিক্ষা উপকরণ)। এ জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আইসিটি প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। যথাসময়ে স্কুলগুলোতে পৌঁছে দেয়া হবে ল্যাপটপ, ইন্টারনেট মডেম, প্রজেক্টর ও স্পিকার। মুখস্ত করার চিরাচরিত পদ্ধতি থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনার লক্ষ্যেই এই মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম চালু করা হচ্ছে। এই ক্লাসে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) কাজে লাগিয়ে পাঠ্যবইয়ের দুর্বোধ্য বিষয়গুলোকে ছবি, অ্যানিমেশন ও ভিডিও ক্লিপের সাহায্যে শিক্ষার্থীদের কাছে আরো সহজভাবে উপস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি, এমপিওভুক্ত, সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত ও ইআইএন নম্বর রয়েছে-এমন সব মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই একটি কক্ষকে মাল্টিমিডিয়া ক্লাশরুম করা হবে। আগামী বছরের জুনের মধ্যে আরো ১০ হাজার ৫শ’ স্কুলে মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম তৈরি করা হবে। বর্তমানে দেশে সরকারি ও বেসরকারি স্কুল ও মাদ্রাসা রয়েছে ৩২ হাজার। এর মধ্যে ২৩ হাজার ২১৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুত্ সংযোগ রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যায়ক্রমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সুবিধা দেয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়াধীন আইসিটি প্রকল্পের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ এ ব্যাপারে ইত্তেফাককে জানান, তারা আগামী জানুয়ারি নাগাদ ১০ হাজার মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুম প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলোতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাঠানো শুরু করেছেন। তিনি আরো জানান, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস রুমের জন্য প্রয়োজন হবে ডিজিটাল কনটেন্ট। এই ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির জন্য বর্তমানে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ চলছে। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, মাল্টিমিডিয়া রুমে ইন্টারনেট সংযোগ দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে গ্রামীণ ফোনের সাথে চুক্তি হয়েছে। গ্রামীণ ফোন সিম ও মডেম দিবে। সিমসহ মডেমের মূল্য ধরা হয়েছে ৬৭৭ টাকা। আর সংযোগের জন্য পরিশোধ করতে হবে ৩১৭ টাকা। প্রথম এক বছর প্রকল্প থেকে বিল পরিশোধ করা হবে। পরে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব খাত থেকে এই টাকা পরিশোধ করতে হবে। তিনি জানান, ৩০৬ কোটি টাকার এ প্রকল্পের আওতায় ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি বিষয়ে ২০ হাজার ৫০০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১০ হাজার শিক্ষক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে স্কুলগুলোর প্রতিটি রুমেই মাল্টিমিডিয়া যুক্ত হবে। আর তৃতীয় পর্যায়ে প্রতিটি স্কুলে একটি সমৃদ্ধ ল্যাব তৈরি করা হবে। যেখানে সব শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, আমরা দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আইটি প্রযুক্তি পৌঁছে দেবো। প্রথম পর্যায়ে ২০ হাজার ৫০০ প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো হবে। তিনি বলেন, প্রশিক্ষিত শিক্ষকরাই হলেন আইটি-দক্ষ নতুন প্রজন্ম গড়ার মূল কারিগর। শিক্ষকরা প্রথমে স্ব স্ব স্কুল-মাদ্রাসার অন্য সকল শিক্ষককে শেখাবেন। নতুন নতুন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করবেন। নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের ভর্তি, রেজিস্টেশন ফর্ম পূরণ থেকে শুরু করে সকল কাজ ইন্টারনেটের সহায়তায় ল্যাপটপ দিয়ে নিজেরা করবেন। এর মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ডসহ দাপ্তরিক যে কোনো যোগাযোগ নিজ প্রতিষ্ঠানে বসেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, ওই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের পাশাপাশি উপজেলা ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসাররাও মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি বিষয়ক প্রশিক্ষণ পাবেন। এ ব্যাপারে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, শিক্ষকদের ট্রেনিং দেয়া হয়েছে, এখন তাদেরকে মনিটরিং করবেন জেলা শিক্ষা অফিসারগণ। সুতরাং এ বিষয়ে তাদেরও জানতে হবে, নইলে মনিটরিং হবে না। প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা হবে। প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দফায় ৩২ জন জেলা শিক্ষা অফিসার প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজে এই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। অন্যদিকে রাজধানীর পিলখানায় বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) পরিচালিত পিলখানা বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজে মাধ্যমিক স্তরে ইতিমধ্যে ২৫টি করে ডিজিটাল মাল্টিমিডিয়া টাচ স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে এক কোটি ৫৮ লাখ টাকা।