চট্টগ্রাম বন্দরের প্রায় ৭০ কোটি টাকার সিটিএমএস প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এরই মধ্যে এই প্রকল্পের সিংহভাগ খরচ হলেও তা চট্টগ্রাম বন্দরের কোনো কাজে আসছে না বরং চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। এ পর্যায়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সিস্টেম এনালিস্টের পক্ষ থেকে প্রকল্প পরিত্যক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনারসমূহ দ্রুত এবং নিশ্চিতভাবে বন্দর থেকে খালাস নেয়া এবং পণ্যভর্তি কন্টেইনার বিদেশে রপ্তানির জন্য আধুনিক কন্টেইনার টার্মিনাল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (সিটিএমএস) প্রকল্প চালু করা হয়। চার বছরের ম্যান্টেইনেন্সসহ এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এ প্রকল্পের অধিকাংশই আবার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক থেকে নেয়া।
প্রকল্পটি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও এর বেশিরভাগ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। এর আওতায় এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে কাজ শুরু হলেও বাস্তবে এর দ্বারা চট্টগ্রাম বন্দর এবং আমদানি ও রপ্তানিকারকগণ কোনো উপকার পাচ্ছে না। চুক্তি অনুযায়ী সিঙ্গাপুর টেকনোলজি ইলেক্ট্রনিক (এসটিই) সিটিএমএস প্রকল্পে হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার, নেটওয়ার্কসহ অন্য যে সব মডিউল সরবরাহ করার কথা, তা এখনো সরবরাহ করা হয়নি বলে বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান। এসটিই-এর দুর্বলতা ও অনিয়মের বিষয় তদন্ত করতে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও মন্ত্রণালয় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। সিটিএমএস-এর ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী কী কী সামগ্রী সরবরাহ করা হয়নি, তা নির্ধারণের জন্য গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২২ নভেম্বরও মিলিত হয়েছিলেন। বৈঠকে সিটিএমএস-এর যেসব কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি কিংবা আংশিক চালু হয়েছে, তা সভায় উপস্থাপন করা হয়। এ ছাড়া সিটিএমএস-এর যে কাজ চলমান, সে ক্ষেত্রেও প্রতিনিয়ত যে ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, তা বৈঠকে তুলে ধরা হয়। সিটিএমএস সিস্টেম পুরোপুরি কার্যকর না থাকায় চট্টগ্রাম বন্দরের কন্টেইনারের বিল করতে সমস্যা হচ্ছে বলে বন্দরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ জানান। এই পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরের ট্রাফিক বিভাগ থেকে আগের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কন্টেইনারগুলোর বিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সিটিএমএস-এর প্রধান কাজ নেটওয়ার্কিং। কিন্তু বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড ও জেটিতে প্রায়ই নেটওয়ার্ক থাকে না। বন্দরের সিস্টেম এনালিস্ট সুফি মোহাম্মদ শোয়েব জানান, গত মঙ্গলবারও পাঁচটি ইয়ার্ডে নেটওয়ার্ক ছিল না। ঘরের মধ্যে নেটওয়ার্ক মোটেই থাকে না। বৃষ্টির দিন কোথাও নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। চুক্তি অনুযায়ী নেটওয়ার্কের জন্য ব্যবহূত ফাইবার অপটিক ক্যাবল ব্যবহূত হবে কিন্তু দেয়া হয়েছে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কিং। চুক্তি অনুযায়ী সিস্টেমটি প্রতিদিনই চলার কথা কিন্তু সাপ্লাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ীই প্রায় ৯২ ঘণ্টা সিস্টেম ডাউন ছিল। চুক্তি অনুযায়ী ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) শতাধিক নমুনা সরবরাহ করার কথা কিন্তু মাত্র ৩০টি নমুনা সরবরাহ করা হলেও বিস্তারিত দেয়া হয়নি। কারণ, এমআইএস মাধ্যমে বন্দরের ভবিষ্যত্ উন্নয়ন, রাজস্ব, সংস্কার, সুবিধা প্রভৃতি বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিটিএমএস-এর অন্যতম বিষয় হলো, জাহাজের বার্থিং পদ্ধতি ও লেবার নির্ধারণ কিন্তু এখন পর্যন্ত তা চালু হয়নি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এসইটির সরবরাহ করা সব সফটওয়্যার লাইসেন্স করে দেয়ার কথা কিন্তু তাও সম্পন্ন হয়নি বলে জানা গেছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের আইটি টিমের সম্প্রতি এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, সরবরাহকারীর ২৪১টি আইটেম সরবরাহ করার কথা থাকলেও মাত্র ৪৮টি সরবরাহ করেছে। এ ছাড়া এরই মধ্যে গঠিত কমিটিগুলো নিয়েও বন্দরের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
