কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ দিয়ে ত্রিপুরায় চাল নিতে চায় ভারত

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৮
কলকাতা থেকে আশুগঞ্জ দিয়ে ৩৫ হাজার টন চাল ত্রিপুরায় নিতে চায় ভারত। কিন্তু আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত সড়কের নাজুক অবস্থার কারণে এক সঙ্গে এতো চাল পরিবহনে সম্মত নয় বাংলাদেশ। তবে মানবিক বিবেচনায় কয়েক দফায় এই চাল পরিবহনের অনুমতি দেয়া হতে পারে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এ খবর পাওয়া গেছে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোঃ আলাউদ্দিন ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, নভেম্বরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ-ভারত অভ্যন্তরীণ নৌপথ অতিক্রমণ ও বাণিজ্য প্রটোকল নিয়ে আলোচনার সময় এই প্রস্তাব দেয়া হয়। কিন্তু এই ধরনের পরিবহন কার্যক্রমের সঙ্গে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জড়িত থাকায় তাত্ক্ষণিকভাবে এতে সম্মত হওয়ার কোন সুযোগ আমাদের ছিল না। আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়া পর্যন্ত প্রায় ৬০ কিলোমিটার সড়ক যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। এই সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। যদি ধরা হয় প্রতিটি ট্রাকে ২০ টন চাল পরিবহন করা হবে, তাহলেও প্রতি এক হাজার টন চালের জন্যে ৫০টি ট্রাকের প্রয়োজন হবে। অর্থাত্ ৩৫ হাজার টন চালের জন্যে ১৭৫০টি ট্রাকের প্রয়োজন হবে। অল্প সময়ে এতো বিপুল সংখ্যক ট্রাকের ধকল সামলানোর জন্যে সড়কটি উপযোগী কিনা সে বিষয়ে বলতে পারবে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়। তাছাড়া ট্রানজিট বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং আর্থিক বিষয়গুলো দেখে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড। এসব কারণেই আমরা তাদের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠাতে বলেছি। তাদের প্রস্তাব পেলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো এক সঙ্গে বসে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অন্য একটি সূত্র জানায়, আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পেলে মানবিক বিবেচনায় ধাপে ধাপে এই চাল পরিবহনের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে সড়কের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো থেকে আরও জানা গেছে, উত্তরাঞ্চলের সাত রাজ্যে পণ্য আনা-নেয়ার জন্যে এখনই আশুগঞ্জ নৌ বন্দর ব্যবহার করতে চায় ভারত। দিল্লি বৈঠকে এ বিষয়ে তাগিদ দিয়েছে ভারত। একই সঙ্গে আশুগঞ্জে ট্রান্সশিপমেন্টের জন্য আসা বাল্ক পণ্যের ফি বা চার্জ নির্ধারণেরও তাগিদ দেয় ভারত। জাহাজে চাল, গম বা বিটুমিনের মতো বেশ কিছু পণ্য ট্রান্সশিপমেন্টের আওতায় ত্রিপুরায় পাঠানোর অপেক্ষায় রয়েছেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আশুগঞ্জে অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। ভারতকে নৌ-করিডোর দেয়ার লক্ষ্যে প্রায় ২৪৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। ভারত ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে প্রকল্পে অর্থায়ন করবে। প্রকল্পটির বিভিন্ন অংশ রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- ৩টি জেটি নির্মাণ, প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, কন্টেইনার ইয়ার্ড নির্মাণ, ট্রাক ইয়ার্ড নির্মাণ, নদী খনন ও বন্দরের প্রবেশ পথ নির্মাণ। এর মধ্যে প্রশাসনিক ভবন, বন্দরের প্রবেশ পথের জন্যে ইতিমধ্যে দরপত্র আহবান করা হয়েছে। অন্য অংশগুলোর জন্যে স্থান নির্ধারণ, নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে।