নির্বাচনকালীন ‘কিংস পার্টি’ গঠনের সুযোগ রয়েই গেল!

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:১৯
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণে ইচ্ছুকদের আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ নিবন্ধিত ৩৮টি রাজনৈতিক দলে যোগদানের কোন সুযোগ নেই। তবে নতুন রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে (যদি নিবন্ধিত হয়) দলবদলের সুযোগ রাখা হয়েছে। ওই দলে আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ যে কোন দলের সদস্যরা যোগ দিয়েই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবেন। তাদের ক্ষেত্রে কোন রাজনৈতিক দলে তিন বছর থাকার বাধ্যবাধকতা নেই। নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এর মাধ্যমে নির্বাচনকালীন ‘কিংস পার্টি’ গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে। সংসদ নির্বাচন পরিচালনার জন্য ১৯৭২ সালে প্রণীত হয় গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ। দেশে জরুরি আইন বলবত্ থাকা কালে গঠিত বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বেশকিছু বিধান সংশোধন করে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালের ১২ নভেম্বর এই অধ্যাদেশ সংসদে পাস হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ এর ২০০৯ সালের সংশোধিত বিধানের ১২ ধারায় প্রার্থীদের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বর্ণনা রয়েছে। ওই ধারার (ঞ) উপ-ধারায় উল্লেখ রয়েছে, ‘কোন ব্যক্তি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে ৩ বছর না থাকলে তিনি নির্বাচনে অংশ গ্রহণের জন্য অযোগ্য হবেন। তবে শর্ত থাকে যে ‘নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দলের প্রথম নিবন্ধিকরণের তারিখ থেকে তিন বছর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ঐ দল কর্তৃক মনোনীত প্রার্থীর ক্ষেত্রে এই বিধান প্রযোজ্য হবে না।’ অর্থাত্ কোন নতুন রাজনৈতিক দল আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে যদি নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত হয়, তাহলে ওই দলের ক্ষেত্রে তিন বছরের সদস্য থাকার বাধ্যবাধকতা থাকছে না। ফলে নতুন দলের প্রাথমিক সদস্য হয়ে যে কোন ব্যক্তি আগামী সংসদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। এমনকি দল ত্যাগ কিংবা বহিষ্কৃত হয়েও নতুন দলে যোগ দিয়ে প্রার্থী হতে পারবেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের অভিমত, বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং তার গঠিত নির্বাচন কমিশন আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে ভাঙ্গার এবং ওই দু’টি দলের সংস্কারপন্থীদের দিয়ে আলাদা দল গঠন করার জন্যই সুকৌশলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে এই বিধান রেখেছিল। এই সুযোগে সেই সময়ে ‘কিংস পার্টি’ গঠনের তত্পরতাও দেখা গিয়েছিল। আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কোন রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে তিন বছর থাকার বাধ্যবাধকতা নতুন-পুরাতন সকল দলের জন্য প্রযোজ্য হওয়া উচিত। তাহলে নির্বাচনকালীন ‘কিংস পার্টি’ গঠনের তত্পরতা বন্ধ হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনের সময়ে দলবদলের যে হিড়িক সেটিও থাকবে না। সংবিধান অনুযায়ী আগামী বছরের ২৬ অক্টোবর থেকে ২০১৪ সালের ২৪ জানুয়ারির মধ্যে দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেই হিসেবে আর মাত্র ১১ মাস পরে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিবন্ধন পেতে রাজনৈতিক দলগুলোর সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ইত্তেফাককে জানিয়েছেন, আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের জন্য এটিই শেষ সময়সীমা। রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বিধিমালা ২০০৮, এর ৩ ধারায় বলা আছে, ‘কমিশন নির্বাচনে অংশ গ্রহণে ইচ্ছুক রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য সময় সময় গণবিজ্ঞপ্তি দ্বারা দরখাস্ত আহবান করতে পারবে’। সর্বপ্রথম ২০০৮ সালের ১৫ অক্টোবর নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। কিংস পার্টি কি :কিংস পার্টি সম্পর্কে বাংলাদেশ রাষ্ট্রবিজ্ঞান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. আতাউর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, আগেরকার আমলে রাজাদের পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নে তাদের সমর্থকদের নিয়ে যে প্লাটফর্ম গঠন করা হতো তাকেই কিংস পার্টি বলা হতো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা ও অর্থায়নে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমমনা উপ-দলগুলোকে একত্রিত করে ( একই মতাদর্শে বিশ্বাসী) দল গঠনের প্রক্রিয়াকেই কিংস পার্টি বলা যেতে পারে। বিশেষ করে এটি পাকিস্তানে এমনকি বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানের আমলে হয়েছিল। আতাউর রহমান আরো বলেন, ২০০৭ সালে বাংলাদেশে এ ধরনের একটি নামকাওয়াস্তে উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। তবে সেটি পরিপূর্ণ উদ্যোগ ছিল না। লোক দেখানো উদ্যোগ বাস্তবে রূপ পায়নি।