মিসরের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির ‘ক্যাডারদের’ হামলার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট ডেকেছেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা। দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের বিচারকরা গতকাল রবিবার আদালতের বাইরে একটি প্রতিবাদ সভা করতে চাইলে মুরসরি সমর্থক একদল উচ্ছৃঙ্খল যুবক তাতে হামলা চালিয়ে সভার আয়োজন পণ্ড করে দেয়। যতদিন পর্যন্ত মুক্তভাবে মত প্রকাশের স্বাধীনতা না দেয়া হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ চাপ প্রয়োগ করা হবে ততদিন পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে বলে বিচারকরা ঘোষণা দিয়েছেন। গতকাল রবিবার আদালতের একটি বিবৃতিতে একথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিচারকদের যেভাবে মানসিকভাবে ‘হত্যা’ করা হচ্ছে তাতে আদালত চরমভাবে মর্মাহত। এই অবস্থার অবসান না হওয়া পর্যন্ত বিচারকরা অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট পালন করবেন। তারা সব ধরনের কার্যাবলী থেকে নিজেদের বিরত রাখবেন।
এর আগে মিসরে বিতর্কিত নতুন সংবিধানের খসড়া প্রণয়নকারী প্যানেলের বৈধতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে সম্ভাব্য এমন যে কোনো ধরনের রায় ঘোষণা ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট মুরসির শত শত সমর্থক আদালত প্রাঙ্গণ ঘিরে রাখে। ফলে এদিন দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক আদালতের রায় ঘোষণা বন্ধ থাকে। মুরসির সমথর্করা কম্বল জড়িয়ে ও মুরসির পোস্টার নিয়ে বিচারকদের আদালতে প্রবেশ ঠেকাতে আদালত ভবনের বাইরে রাত কাটান।
আদালতের বিচারকরা মুরসির ডিক্রি উপেক্ষা করে সংবিধান প্রণয়নকারী গণপরিষদের বৈধতা প্রশ্নে রায় দেবেন বলে আশঙ্কা করে তার সমর্থকরা। বিরোধীরা অভিযোগ করেছেন ডিক্রি জারির মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট মুরসি যে ক্ষমতা হাতে নিয়েছেন তা আইনের আওতা বহির্ভূত।
উল্লেখ্য, গত ২২ নভেম্বর মুরসির ডিক্রি জারির পর সহিংস বিক্ষোভ ও ধর্মঘট শুরু হয় এবং ইসলামপন্থী প্রেসিডেন্ট মুরসির সঙ্গে বিচার বিভাগের বিরোধ তৈরি হয়। আগামী ১৫ ডিসেম্বর খসড়া সংবিধানের ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
