ডা. সাজিয়া আফরিন ইভা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার ফয়সাল গতকাল রবিবার ম্যাজিস্ট্রেট আসিবুল হকের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি-মূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ডা. ইভাকে আমি খুন করি’।
জবানবন্দিতে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার রাতে সিজারিয়ান করে ডা. ইভা ক্লিনিকের তৃতীয় তলার এক নম্বর কক্ষে বিশ্রাম নিতে যান। রাত ১২টার দিকে ফয়সাল কক্ষের দরজার কড়া নাড়লে ডা. ইভা দরজা খুলে দেন। কিছু বলার আগেই তিনি ইভাকে জড়িয়ে ধরেন। ডা. ইভা চিত্কার দেয়ার চেষ্টা করলে তিনি তার মুখ চেপে ধরেন। আত্মরক্ষার জন্য ইভা ফয়সালকে চড়-থাপ্পড় মারেন। একপর্যায় ফয়সাল ডা. ইভার বুকের ওপর উঠে গলা চেপে ধরলে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান। এরপর কক্ষের দরজা বন্ধ করে ফয়সাল নিজ কক্ষে চলে যান। পরদিন ভোরে ক্লিনিক থেকে পালিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিজ গ্রামের বাড়িতে চলে যান ফরসাল। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বলে ফয়সাল জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন। পরে তাকে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেয়া হয়।
এদিকে ডা. ইভা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রতিবাদে বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) গতকাল দেশব্যাপী কালোব্যাজ ধারণ করে মানববন্ধন করেছে। এ সময় বিএমএ নেতারা বলেন, ডা. ইভা হত্যাকাণ্ড নিয়ে যেন নাটক সাজানো না হয়। জড়িতদের দ্রুত বিচার আইনে বিচারের দাবি জানিয়েছেন নেতারা। নইলে বিএমএ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলে নেতারা হুঁশিয়ার করেন। সকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে চিকিত্সকরা সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন। মানববন্ধনে বিএমএর সভাপতি ডা. মাহমুদ হাসান, সহ-সভাপতি (ঢাকা সিটি) ডা. এমএ রউফ সরদার, সহ-সভাপতি (ঢাকা বিভাগ) ডা. কামরুল হাসান খান, সহ-সভাপতি ডা. রোকেয়া সুলতানা, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. উত্তম বড়ুয়া, দফতর সম্পাদক ডা. চিত্তরঞ্জন দাস, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ডা. সোহেল মাহমুদ, অধ্যাপক ডা. লতিফা শামসুদ্দিন ও অধ্যাপক ডা. ফারহানা দেওয়ান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তরা জোন) নিশারুল আরিফ গতকাল ইত্তেফাককে জানান, ফয়সাল একাই খুন করেছে। ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর ডা. ইভাকে খুন করা হয়। তদন্তে এ প্রমাণ মিলেছে। গ্রেফতার হওয়া অপর তিন আসামি ভবন মালিকের ছেলে বাবু, ক্লিনিকের নার্স খাদিজা ও বয় মামুনকে আটক রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। হত্যাকাণ্ডে তাদের জড়িত থাকার প্রমাণ গতকাল পর্যন্ত পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
জজ মিয়া নাটক যেন না হয়
বিএমএ, স্বাচিপ ও ড্যাবের নেতারা গতকাল ইত্তেফাককে জানান, চারতলা ভবনের তৃতীয় তলা পর্যন্ত ক্লিনিক। চারতলায় ভবন মালিক মনির মিয়া ও তার পরিবার থাকেন। ক্লিনিকে ওইদিন কর্মচারী, নার্স ও রোগী ছিল। এ রকম পরিবেশে একজন সামান্য কেয়ারটেকার যে মাত্র পঞ্চম শ্রেণী পাস, সে একাই ডা. ইভাকে হত্যা করে। বিষয়টি জজ মিয়ার নাটকের মতো মনে হচ্ছে। ভবন মালিক ও অন্য কর্মচারীরা কোন শব্দ পাননি, এটা বিশ্বাস হচ্ছে না। ভবন মালিকের ছেলে বাবু বখাটে। তারা বলেন, ‘এলাকার লোকজন আমাদের জানিয়েছে হত্যাকাণ্ডে বাবুর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে।’ হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কাছে ন্যস্ত করার দাবি জানান তারা।
