শীতে ত্বকের সুরক্ষা

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৪
সময়টা শীত। বনে বনে পাতা ঝরার উত্সব। পাতা ঝরে গেলে গাছকে যেমন নিষ্প্রাণ লাগে, তেমনি ত্বকের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়। শুষ্ক আবহাওয়া ও ধুলাবালুতে চলার ফলে ত্বক হয়ে যায় খসখসে ও মলিন। শীতকালে ক্রিম, সাবান যাই ব্যবহার করবেন লক্ষ রাখবেন তা যেন ময়েশ্চারাইজারযুক্ত হয়। দিনে অন্তত দু’বার ক্রিম ব্যবহার করবেন। আলফা হাইড্রক্সি বা ভিটামিন-ই যুক্ত ক্রিম ব্যবহার করা ভালো। গোসলের আগে শরীরে অলিভ অয়েল মাখতে পারেন অথবা গোসলের শেষে অল্প পানিতে কিছুটা অলিভ অয়েল দিয়ে গা ধুয়ে নিন। তারপর আলতো করে গা মুছবেন। সাধারণত আমরা মনে করি, শীতকালে সানস্ক্রিন প্রয়োজন হয় না। এটি ভুল ধারণা। ত্বক বিশেষজ্ঞের মতে, ইউভিএ রশ্মি ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকারক। ইউভিএ রশ্মি ত্বকে দ্রুত বলিরেখা ফেলতে সহায়তা করে। ত্বকে উপযুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করলে বার্ধক্যজনিত সমস্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। এ কথা ঠিক যে, সূর্যরশ্মি সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য প্রয়োজন। এতে যে ভিটামিন পাওয়া যায় তা প্রয়োজনীয়। কিন্তু বেশি সূর্যরশ্মি ও ইউভিএ রশ্মি ত্বকে অপূরণীয় ক্ষতি ও অকালবার্ধক্যের কারণ। সানস্ক্রিন ইউভিএ-এর দাহ্যতা কমিয়ে দেয়। শীতকালেও নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। শীতে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে বিধায় ত্বকের এপিডার্মাল লেয়ার থেকে আর্দ্র ভাব কমে যায়। এর ফলে ত্বকে বলিরেখা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে ময়শ্চারাইজারযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করতে হবে। তা ছাড়া গোলাপজল ও গ্লিসারিন ৩ঃ১ অনুপাতে ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। শীতের আরেক সমস্যা হচ্ছে ঠোঁট ফাটা ও কালো হয়ে যাওয়া। এর সমাধানও গ্লিসারিন। বারবার জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাবেন না। আর ঘুমাতে যাওয়ার আগে গ্লিসারিন লাগাবেন। হাত-পায়ের ত্বক ফেটে গেলে তারপর গ্লিসারিন বা ভেসলিন না মেখে বরং ফেটে যাওয়ার আগেই গ্লিসারিন মেখে নেওয়া ভালো। শীতে ত্বকের যত্নে আপনাকে অবশ্যই কিছু সময় দিতে হবে। মহিলারা যারা নিয়মিত ফেসিয়াল, স্ক্র্যাব ম্যাসাজ করান তারা শীতকালেও নিয়মিত চালিয়ে যান। শীতকালের জন্য ফেসিয়াল ও স্ক্র্যাব ম্যাসাজ বেশ ভালো। কারণ এতে ত্বকের মরা কোষ উঠে যেতে সাহায্য করে। আপনার ত্বক যদি শুষ্ক ও তৈলাক্ত দুই ধরনের হয়ে থাকে, তাহলে ত্বকের প্রতি আরও বেশি যত্নবান হতে হবে। কারণ শুষ্কতা রোধ করতে গেলে ত্বকের আর্দ্রতা বেড়ে যেতে পারে। ঠিক একইভাবে আর্দ্রতা কমাতে গেলে শুষ্কতা বৃদ্ধি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার যেসব বিষয়ের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে, সেগুলো হলো— দিনে তিনবার মুখ, গলা, কান ক্লিনজার দিয়ে পরিষ্কার করবেন। শীতে ধুলো বেশি হওয়ায় ত্বকে ময়লা জমে বেশি। গোসলের সময় সাবান বেশি ব্যবহার না করে একটা নরম ওয়াশ ক্লথ দিয়ে শরীর ঘষে ময়লা তুলে নেবেন। এরপর সারা শরীরে উইন্টার কেয়ার লোশন ব্যবহার করুন, যা শরীরের আর্দ্রতা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করবে। এ ছাড়া যাদের পা ফাটার সমস্যা আছে, তারা নরম পা ঢাকার জুতা পরলে আরাম পাবেন। বাইরে বা রোদে বেরুলে শরীরের অনাবৃত অংশের ত্বক রক্ষার জন্য অবশ্যই ময়েশ্চারাইজার বা সান প্রোটেক্ট ক্রিম ব্যবহার করবেন। যারা শুষ্ক ত্বকের ময়লা তুলতে আগ্রহী, তারা সপ্তাহে ২-৩ বার উপটান ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া যাদের ত্বক খুব শুষ্ক, তারা ত্বকে পুষ্টি জোগাতে ডিম ও মধুর মাস্ক কিংবা বাদাম বাটার মাস্কও লাগাতে পারেন। শীতে চুলের যত্ন শীতকালে চুলে ধুলো-ময়লা জমে চুল হয় শুষ্ক ও রুক্ষ। এ ছাড়া শীতকালে চুলের প্রধান সমস্যা চুল পড়া ও খুশকির উপদ্রব। চুল পরিপাটি সুন্দর রাখা যায় দুটি উপায়ে—চিরুনি দিয়ে আঁচড়ে এবং ব্রাশ করে। তোয়ালে দিয়ে আলতোভাবে শুকানোর পর চুল সামান্য ভেজা থাকা অবস্থাতেই চিরুনি দিয়ে আঁচড়ান, যাতে সহজেই জট ছাড়ানো যায়। সুন্দর চুলের অধিকারী হতে হলে চুলের যত্নসূচি বেছে নিয়ে নিয়মিত তা মেনে চলুন, দেখবেন আপনার চুলের সুন্দর রূপ আরও বেড়েই চলছে। মডেল নূপুর ছবি আশীষ সেনগুপ্ত