শীতে সোনামণির যত্ন

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:৫৭
শীতকালে খাওয়া-দাওয়া, চলাফেরার সুবিধা অন্যান্য ঋতুর চেয়ে খানিকটা সুবিধাজনক হলেও ঠাণ্ডাজনিত রোগ এ সময় একটু বেশিই দেখা দেয়। বিশেষত ঋতু পরিবর্তনের ফলে শীতে শিশুর বিভিন্ন ধরনের অসুখ-বিসুখ বেশি হয়ে থাকে। সব বাবা-মা’ই চান তার শিশুটিকে সুন্দরভাবে পরিচর্যা করতে এবং বিভিন্ন অসুখের হাত থেকে রক্ষা করতে। সে জন্য প্রথমে প্রত্যেক মা-বাবার শিশুকে শীতকালীন অসুখ থেকে রক্ষা করার জন্য সচেতন হওয়া দরকার। তাই শিশুর যত্ন, পরিচর্যা এবং প্রতিপালনের জন্য কতগুলো নিয়ম মেনে চললে শিশুকে শীতকালীন রোগ থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করা যাবে। শীতে জ্বর, সর্দি, কিংবা কাশি সাধারণ ঘটনা। এসব জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল সিরাপ, নাকে পানি পড়ার জন্য হিসটাসিন বা এলাট্রল এবং কাশির জন্য সালবিউটামল সিরাপ বয়স অনুযায়ী খাওয়ালে ভালো হয়ে যায়। অনেকের আবার তাও লাগে না। লবণ পানি দিয়ে নাক পরিষ্কার এবং বুকের দুধ ও পর্যাপ্ত তরল খাবার খাওয়ালেই ভালো হয়ে যায়। বাসক পাতার রস এবং মধুও ভালো কাজে দেয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিকেল অফিসার আক্তারুজ্জামান লিকু জানান, শীতে শিশুর সর্দি-কাশির বেশিরভাগই ভাইরাসজনিত। এগুলোয় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো দরকার পড়ে না। তাই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া অহেতুক অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার করলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। ঘরোয়া চিকিত্সাতেই অধিকাংশ সর্দি-জ্বর ভালো হয়, তাই জানা দরকার কখন ডাক্তার দেখাবেন। শীতের সময় শিশুকে প্রতিদিন সামান্য গরম পানি দিয়ে গোসল করালে ভালো হয়। গোসলের আগে সরিষার তেল ব্যবহার না করে জলপাই তেল ব্যবহার করাই ভালো। গোসলের পর বেবি লোশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন সাবান এবং এক দিন শ্যাম্পু ব্যবহার করা যেতে পারে। শিশুকে প্রতিদিন গোসল করানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকে নবজাতককে নিয়মিত গোসল করান না। ফলে বাচ্চার গায়ে ফুসকুড়ি ওঠে এবং এর মধ্যে পুঁজ জমে যায়। জন্মের পর নবজাতককে ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত গোসল না করানো উচিত। এরপর প্রতিদিন গোসল করানো যেতে পারে। রাতে ঘুমানোর আগে গ্লিসারিনের সঙ্গে পানি মিশিয়ে শিশুর হাত-পায়ে লাগানো যেতে পারে। শীতের শুরুতে বাচ্চাদের খুব গরম কাপড় পরানোর দরকার নেই। শিশুদের মোটা সুতি কাপড় পরানো যেতে পারে। আঁটসাঁট বা উলের কাপড় পরালে শিশুর শরীর ঘেমে ঘামাচি উঠতে পারে। তবে শিশুদের ফ্লানেলের জামা পরানো যেতে পারে। রাতে গলায় ও মাথায় পাতলা কাপড় পেঁচিয়ে রাখলে ভালো হয়। তাহলে ঠাণ্ডা লাগার ভয় অনেকাংশেই কমে যাবে। তবে টুপি বা মোজা পরে শিশুকে কখনোই ঘুমাতে দেওয়া উচিত নয়। শীতকালে শিশুদের জানালার পাশে ঘুম পাড়ানো যাবে না, কারণ শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। শিশুকে খালি পায়ে চলাফেরা করতে দেওয়া যাবে না। গরম কাপড় পরাতে হবে, পায়ে জুতা বা স্যান্ডেল আছে কি না সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। শীতকালীন অসুখে শিশু অসুস্থ হলে তাকে প্রথমে ডাক্তারের কাছে নিয়ে পরামর্শ নিতে হবে, কোনোমতেই হেলাফেলা করা যাবে না। আপনার শিশুকে কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাবেন। শিশু যেন গরম পানিতে হাত না দেয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এই শীতে শিশুর শরীর খসখসে ভাব দেখা দিতে পারে। এ সময় বেবি অয়েল, বেবি লোশন, গ্লিসারিন, ভ্যাসলিন ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। এই শীতে শিশু নিউমোনিয়া, গলা ব্যথা, কাশি, বমি, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের কবলে পড়তে পারে। তার জন্য দায়ী জীবাণু। তাই জীবাণুর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শিশুকে বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করাতে হবে। বেশি অসুস্থ হয়ে গেলে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে তা আগেভাগেই বিবেচনা করে রাখা উচিত। তা ছাড়া শিশুদের প্রতিদিন কিছু সময় রোদে খোলা বাতাসে খেলতে দিন। কারণ ত্বকের নিচে সূর্য কিরণের প্রভাবে ভিটামিন-‘ডি’ উত্পন্ন হয়। শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়ান। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ফুলহাতা শার্ট ও প্যান্ট শিশুকে পরিধান করানো উচিত। এই শীতে শিশুকে কোনো মতেই কোমল পানীয়, বরফ পানীয় খাওয়ানো যাবে না। মডেল অরণী ছবি দীপঙ্কর দীপু