ধরুন এক সময় হয়তো আপনার এলাকার মাঠেই দাপিয়ে বেড়াতেন দেশ বরেণ্য কোনো ক্রিকেটার। কিন্তু জাতীয় দলে যোগ দেওয়ার পর তিনি যে আর পাড়ার মাঠে স্থানীয় কোনো দলের হয়ে খেলবেন না সেটাই একরকম স্বাভাবিক। আর কালে ভদ্রে স্থানীয় কোনো ক্লাবের হয়ে যদি তাকে খেলার আমন্ত্রণ জানানো হয় তবে তার বিপক্ষ দলের অবস্থা যে মোটেও সুখকর হবে না সেটাতো বলাই বাহুল্য। তবে বাস্তবে কিন্তু এমনই এক অস্বস্তির জন্ম দিয়েছেন আমেরিকান সাঁতার প্রতিভা মিসি ফ্রাঙ্কলিন। গেল অলিম্পিকে স্বর্ণপদক জেতা এই সাঁতারু সম্প্রতি তার হাইস্কুলের হয়ে স্কুল পর্যায়ের এক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন। অলিম্পিকের তারকা হবার আগে এই স্কুল আর রাজ্যদলের হয়েই সবার নজর কেড়েছিলেন ফ্রাঙ্কলিন। তারকা হবার পথে প্রায় সব খেলোয়াড়েরই হয়তো এরকম সাফল্যের গল্প থাকে। কিন্তু বড় মাপের সাফল্য পাওয়ার পর কোনো তারকা যদি তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আর তার চাইতে কম সামর্থ্যের খেলোয়াড়দের সাথে খেলতে নামেন তখন যেন উল্টো আপত্তি ওঠে অন্যদের তরফ থেকেই। যদিও আপাতত এসব আপত্তিকে পাত্তা না দিয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতাকেই সমান গুরুত্ব দিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রাঙ্কলিন। তাই শুধুমাত্র স্কুল পর্যায়ের সাঁতারেই নয়, বরং আগামী বছর দুয়েক রাজ্যদল ক্যালিফোর্নিয়ার হয়েও বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেখা যাবে এই সাঁতার বিস্ময়কে। বিষয়টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি এসব স্থানে ফ্রাঙ্কলিনকে যেন তারকা হওয়ার কারণে কোনো ধরনের উটকো ঝামেলায় না পড়তে হয় সেটিও বাড়তি সতর্কতার সাথে দেখার ঘোষণা দিয়েছেন তার দেখভালের দায়িত্বে থাকা অ্যাথলেটিক ডিরেক্টর জন কসলোস্কি। এদিকে স্কুল পর্যায়ের সাঁতারে ফ্রাঙ্কলিনের এই অংশগ্রহণের সংবাদে তার স্কুল দল যতটা না খুশি হয়েছে তার চেয়েও বেশি আতঙ্কে আছেন অন্য স্কুলের সাঁতারুরা। কেননা স্থানীয় পর্যায়ে এত বড় তারকার সাথে সাঁতারে নামবার পরীক্ষা যে তাদেরও তেমন একটা দিতে হয় না!
