সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার কে? এই আলোচনায় তার নাম কখনো আসেনি। শচীন টেন্ডুলকার, ব্রায়ান লারার লড়াইয়েও তিনি কখনো যোগ দেননি। নিজের দলের শেন ওয়ার্নের মতো প্রতিভাধর বলেও সম্মান পাননি।
কিন্তু কাল যখন জীবনের শেষবারের মতো টেস্ট ক্রিকেটের মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে আসছেন; তখন যেন সম্বিত ফিরে পেল ক্রিকেট বিশ্ব। সারা বিশ্ব শুধু দুটো শব্দ উচ্চারণ করছে— ধন্যবাদ রিকি!
ধন্যবাদ পন্টিংকে দিতেই হবে। ১৭টি বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে যে আনন্দ, যে সাফল্য ও যে রানের ধারা উপহার দিয়ে গেছেন; তাতে ক্রিকেটপ্রেমী মাত্রই পন্টিংকে স্যালুট করতে বাধ্য। একেবারেই নিভৃতে যেন একটার পর একটা রেকর্ড ছুয়ে গেছেন, শচীন টেন্ডুলকারের একমাত্র চ্যালেঞ্জার হয়ে ছুটে চলেছেন। ওয়ানডেতে ১৩৭০৪ ও টেস্টে ১৩৩৭৮ রানের পাহাড় গড়েছেন। সবচেয়ে বড় কথা অস্ট্রেলিয়াকে ভূবনজয়ী দলে পরিণত করার অন্যতম বড় কারিগর ছিলেন তিনি।
কাল অবশ্য যখন বিদায় নিলেন, তখন অস্ট্রেলিয়া তার সিংহাসন থেকে ছিটকে গেছে। ক্যারিয়ারের শেষ টেস্টে দেখলেন বিশাল পরাজয়; নিজেও করতে পারলেন মাত্র ৮টি রান। শেষ বেলায় যেন এক ট্রাজেডি উপন্যাসের চরিত্র হিসেবেই বিদায় নিতে হল।
এই বিদায়ের সময়ে পন্টিং নিজে দলের পরিণতি দেখে হয়তো কষ্টে ভুগছেন। এই ক্রিকেট দুনিয়াও বেদনায় ভুগছে। সেটা খোদ রিকি পন্টিংকে হারানোর বেদনা।
যে মাঠে শুরু করেছিলেন ১৫ বছর বয়সে সেই পার্থেই নিলেন। বিদায় বেলায় সতীর্থদের দেয়া গার্ড অব অনারের ভেতর দিয়ে মাঠে নামলেন। ২৩টি বল খেললেন। এর মধ্যে মরনে মরকেলকে ট্রেডমার্ক একটা পুল করে বাউন্ডারি মেরে নস্টালজিক করে দিলেন সবাইকে। শেষ পর্যন্ত রবিন পিটারসেনের বলে আউট হয়ে যখন ফিরে আসছেন; তখন সত্যিই পুরো পার্থ দুই পায়ের ওপর উঠে দাঁড়িয়েছে।
আর সারা বিশ্বের হয়ে পার্থের স্কোর কার্ড বড় বড় করে লিখে ফেলেছে— থ্যাংকস রিকি!
পন্টিংয়ের ক্যারিয়ার বই
ম্যাচ রান গড় শতক সর্বোচ্চ
টেস্ট ১৬৮ ১৩৩৭৮ ৫১.৮৫ ৪১ ২৫৭
ওয়ানডে ৩৭৫ ১৩৭০৮ ৪২.০৩ ৩০ ১৬৪
