বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই...

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৬
বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই/কুঁড়েঘরে থেকে করো শিল্পের বড়াই। আমি থাকি মহাসুখে অট্টালিকার পরে, তুমি কত কষ্ট পাও রোদ বৃষ্টি ঝড়ে...।’ কবি রজনীকান্ত সেনের কালজয়ী এ ছড়ায় বাবুই পাখির প্রধান আস্তানা গ্রাম-বাংলার অনাদিকালের ঐতিহ্য তালগাছ যেমন আর দেখা যায় না, তেমনি দেখা মেলে না ছড়ার নায়ক বাবুই পাখিরও। গ্রামের মাঠের ধারে, পুকুর কিংবা নদীর পাড়ে একপায়ে দাঁড়িয়ে থাকা তালগাছ হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে আপন ঘর নির্মাণে ব্যস্ত শিল্পমনা বাবুই পাখির কিচিরমিচির শব্দ। এখন এসব দৃশ্য শুধুই কল্পনার বিষয়। কখনো কখনো কুঁড়েঘরের কোণে বাসা বাঁধলেও বেশিরভাগ সময় তালগাছ জুড়েই ছিল বাবুই পাখিদের আনাগোনা। কিচিরমিচির শব্দ করে বাবুইরা খোলা মাঠের আনাচে-কানাচে থেকে কুড়িয়ে আনতো খড়কুটো। এসব জড়ো করেই এক সময় গড়ে উঠতো বাবুইদের নিপুণ শিল্পকর্ম কুঁড়েঘর-সদৃশ বাসা। সে বাসা যেমন ছিল দৃষ্টিনন্দন, তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়-বাতাসেও টিকে থাকতো সেটি। দিনাজপুরের প্রবীণ শিক্ষাবিদ ওমর আলী এর কাছে বাবুই পাখি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এলাকায় এক সময় প্রচুর তাল, নারিকেল ও খেজুরগাছ ছিল। এসব গাছে বাসা বেঁধে বাবুই পাখি বসবাস করতো। ফুটিয়ে তুলতো শৈল্পিক নিদর্শন। এলাকা থেকে তাল জাতীয় গাছ হারিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারিয়ে গেছে বাবুই পাখিও। তাই বাবুই পাখি ও এর শৈল্পিক নিদর্শন টিকিয়ে রাখতে ও সংরক্ষণে প্রয়োজন দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে বলে সচেতন মহল মনে করেন।