প্রেম প্রত্যাখ্যানে স্কুলছাত্রীকে কোপালো বখাটে

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:১৮

জেলার কুলাউড়ায় প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সামিরা আক্তার নামে ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রকাশ্যে দা দিয়ে কোপালো এক বখাটে। এ সময় বখাটে জুয়েল আহমদকে জনতা আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। আহত ছাত্রী সামিরার অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে উপজেলার কুলাউড়া-ঘাটের বাজার সড়কের মীরশংকর এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। সামিরা আক্তার কুলাউড়া পৌর শহরের সাদেকপুরস্থ আল হেরা ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী। তার পিতা আরব আমিরাত প্রবাসী সরফ উদ্দিন।

স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও ছাত্রীর মা এবং স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, সামিরা উপজেলার ভূকশীমইল ইউনিয়নের সপ্তগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াবস্থায় সাদিপুর গ্রামের মত্স্যজীবী বকুল মিয়ার পুত্র জুয়েল আহমদ প্রায়ই তাকে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি ছাত্রীর অভিভাবক স্থানীয় মেম্বার ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে। পরে কর্তৃপক্ষ জুয়েলের পিতা ও ভাইদের ডেকে ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করবে না মর্মে তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিভাবকরা ভয়ে সামিরাকে কুলাউড়া পৌর শহরের আলহেরা ক্যাডেট স্কুলে ভর্তি করে। এরপরও ওই যুবক সামিরাকে উত্ত্যক্ত করতে থাকে।  শনিবার দুপুরে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরতে সিএনজি অটোরিকশায় মীরশংকর বাজারে গিয়ে নামে সামিরা। সেখান থেকে হেঁটে বাড়িতে প্রবেশের সময় জুয়েল প্রকাশ্যে ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এ সময় চিত্কার শুনে স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সামিরাকে কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তার মাথায় ও কানে দায়ের কোপ রয়েছে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন কর্তব্যরত চিকিত্সক।

এ সময় ছাত্রীর মা সাহারা বেগম আহাজারি করে বলেন, ‘জুয়েল আমার বড় মেয়েকে সব সময় উত্ত্যক্ত করতো। স্থানীয় মেম্বার বিষয়টি জানতেন। আমার স্বামী প্রবাসে থাকেন। আজ আমার মেয়েটির জীবন সংকটে। আমি আমার মেয়ের হত্যার চেষ্টাকারীদের বিচার চাই।’

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইয়ারদৌস হাসান বলেন, জুয়েলকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।