ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ ও কুষ্টিয়া চিনিকলে ২৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ৫ হাজার ৮৫০ টন চিনি অবিক্রীত রয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ মজুত চিনি নিয়ে মিল কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়েছে। সে সাথে নগদ অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। মোবারকগঞ্জ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. দেলওয়ার হোসেন জানান, গত বছর উত্পাদিত চিনির মধ্যে এখনও ৪ হাজার টন অবিক্রীত। প্রথমে প্রতি টনের মূল্য ধার্য করা হয় ৬০ হাজার টাকা।্ অর্ধাত্ প্রতি কেজি ৬০ টাকা। খোলাবাজারে চিনির দর পতনের পর দাম কমিয়ে প্রতি টন ৫৫ হাজার টাকা করা হয়। এরপরও মিলের ডিলাররা চিনি তোলে না। পরে আরেক ধাপ কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। খোলাবাজারে দাম কম থাকায় মিলের চিনি বিক্রি হচ্ছে না। বর্তমানে ২০ কোটি টাকা মূল্যের ৪ হাজার টন চিনি অবিক্রিত রয়েছে। চিনি বিক্রি না হওয়ায় মিলটি আর্থিক সংকটে পড়েছে। কর্মকর্তা, কর্মচারি ও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ভাতা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। দু’মাসের বেতন বকেয়া পড়েছে। ৭ ডিসেম্বর থেকে চলতি মাড়াই মৌসুমের (২০১২-২০১৩) চিনি উত্পাদন শুরু হবে। এবার এ চিনিকলে এক লাখ ১০ হাজার টন আখ মাড়াই করে সাড়ে ৮ হাজার টন চিনি উত্পাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। তবে আখের অভাবে চিনির উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশংকা। কুষ্টিয়া চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, এ মিলে গত মৌসুমে উত্পাদিত ১৮শ’ ৫০ টন চিনি অবিক্রীত রয়েছে। যার মূল্য সোয়া ৯ কোটি টাকা। গতবছরে উত্পাদিত চিনির মধ্যে মাত্র ৫শ’ টন বিক্রি হয়েছে। চিনি শিল্প করপোরেশন বারবার চিনির দাম কমিয়েছে। তবু চিনি বিক্রি হচ্ছে না।
