অনুকূল আবহাওয়া, কম ভাড়ায় আবাসন সুবিধা, ভিড় এড়িয়ে নিরিবিলি পরিবেশে কক্সবাজারে বেড়ানোর এখনই আদর্শ সময়। কক্সবাজারে রয়েছে বিশ্বের দীর্ঘতম সৈকত, সমুদ্র তীরবর্তী ১শ’ কিলোমিটার দীর্ঘ মেরিন ড্রাইভ রোড, প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, ইনানী পাথুরে সৈকত, হিমছড়ী ঝর্ণা, ঐতিহাসিক গুহা নিয়ে দরিয়ারনগর পর্যটন কেন্দ্র, দেশের একমাত্র বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক, প্রায় ২ হাজার বছর প্রাচীন আদিনাথ মন্দির, সোনাদিয়া দ্বীপ, ইন্টারন্যাশনাল এমিউজমেন্ট ক্লাবসহ অনেক কিছু।
কিভাবে যাবেন
সড়ক পথ
রাজধানী ঢাকা থেকে সড়কপথে কক্সবাজারের দূরত্ব প্রায় ৫শ’ কিলোমিটার। সড়ক পথে বাসে আসার জন্য রয়েছে এসি ও নন এসি উভয় প্রকারের বাস। এসি বাসে ভাড়া লাগে ১ হাজার ৭শ’ টাকা থেকে ১ হাজার ৯শ’ টাকা পর্যন্ত। আর নন এসি বাসের ভাড়া ৭শ’ টাকা। এসি বাসের মধ্যে রয়েছে গ্রীণ লাইন, সোহাগ, হানিফ, টিআর, সেন্টমার্টিন সার্ভিসসহ আরো বিভিন্ন পরিবহনের বাস। নন এসির মধ্যে রয়েছে এসআলম, সৌদিয়া, হানিফ, ইউনিক, শ্যামলী, মডার্ণ লাইন ইত্যাদি। বাসে কক্সবাজারে পৌঁছাতে সময় লাগে বর্তমানে ১০ থেকে ১২ ঘন্টা।
আকাশ পথ
আকাশ পথে কক্সবাজারে আসার জন্য রয়েছে ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের বিমান। এই বিমানটি প্রতিদিন দুপুর ১টায় ঢাকা থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছাড়ে। কক্সবাজার পৌঁছাতে সময় লাগে ১ ঘন্টারও কম। ভাড়া ৫ হাজার থেকে ৭ হাজার ৩শ’ টাকা পর্যন্ত।
নৌ পথ
নৌ পথে সরাসরি কক্সবাজারে আসার কোন পরিবহন সার্ভিস নেই। তবে স্পিডবোট বা ট্রলার রিজার্ভ করে নদী ও সমুদ্র পথে কক্সবাজারে পৌঁছা যায়। সেক্ষেত্রে সময় একটু বেশি লাগে।
কক্সবাজারে কোথায় উঠবেন
কক্সবাজারে থাকার জন্য রয়েছে ৫ তারকা থেকে শুরু করে সাধারণ মানের ৩ শতাধিক হোটেল। ৫ তারকা হোটেলে ২ জনের একটি কক্ষের প্রতিদিনের ভাড়া ৪ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। এসব তারকা হোটেলের মধ্যে রয়েছে সী-গাল, ওশান প্যারাডাইজ, কক্সবাজারটুডে, লংবীচ, সী-প্যালেস, মিডিয়া ইন্টারন্যাশনাল, কোরাল রিফ, নিটল বে রিসোর্ট, অ্যালিগ্রো রিসোর্ট ইত্যাদি। সাগরপাড়ের ৩ তারকা হোটেল মিডিয়া ইন্টারন্যাশনালে ১৪শ’ থেকে ২ হাজার টাকা মধ্যে থাকা যায়। হোটেল সী-গালে ইত্তেফাক পাঠকদের জন্য রয়েছে বিশেষ ডিসকাউন্ট। আর ৫শ’ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যেও মানসম্মত হোটেলে থাকা যায়। এসব হোটেলের মধ্যে রয়েছে ডায়মন্ড প্যালেস, জিয়া গেস্ট ইন, লেমিচ রিসোর্ট, কোয়ালিটি হোম, মোহাম্মদিয়া গেস্ট হাউস, হানিমুন রিসোর্ট ইত্যাদি।
রেস্তোরাঁ
কক্সবাজারে প্রায় প্রত্যেক হোটেলেই রয়েছে নিজস্ব রেস্তোরাঁ। এছাড়া শহরের কয়েকটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁর মধ্যে রয়েছে নিরিবিলি অর্কিড, পউষি, ডায়মন্ড, ঝাউবন, ঢাকা রেস্তোরাঁ ইত্যাদি। এসব রেস্তোরাঁয় ১শ’ টাকার মধ্যেও সুস্বাদু খাবার পাওয়া যায়।
বেড়াবেন কোথায়
কক্সবাজারে মনভরে বেড়াতে হলে কমপক্ষে ৩ দিন সময় হাতে নিয়ে আসতে হবে। পরিকল্পনা করে বেড়ানোর সময়সূচি ঠিক করলে কমসময়েও অনেক কিছু উপভোগ করা যায়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত, দরিয়ারনগর পর্যটন কেন্দ্র, হিমছড়ী ঝর্ণা, ইনানী পাথুরে সৈকত ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির।
অগ্গমেধা ক্যাং, দরিয়ারনগর পর্যটন কেন্দ্র, হিমছড়ী ঝর্ণা, ইনানী পাথুরে সৈকত ও মহেশখালী আদিনাথ মন্দির মাত্র একদিনেই ঘুরে আসা যায়। সকালে কক্সবাজার শহর থেকে নৌপথে মহেশখালীর আদিনাথ মন্দির ঘুরে এসে দুপুরের পর শহরের আশে পাশের পর্যটন স্পটসমূহে বেড়ানো যেতে পারে। কক্সবাজার শহরের কস্তুরাঘাট অথবা ৬ নং জেটিঘাট থেকে মহেশখালী যেতে স্পিডবোটে সময় লাগে মাত্র ১২ মিনিট। ভাড়া জনপ্রতি ৮৫ টাকা। এছাড়া শহরের বার্মিজ মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে প্রায় ২শ’ বছরের প্রাচীন অগ্গমেধা ক্যাং, বাস টার্মিনাল এলাকায় রয়েছে ৪শ’ বছর প্রাচীন মোগল আমলের মসজিদ। সমুদ্র সৈকত থেকে বার্মিজ মার্কেটের রিকশা ভাড়া সর্বোচ্চ ৩০ টাকা, আর বাস টার্মিনালে ৫০ টাকা। কক্সবাজার শহর থেকে ইনানী সৈকতের দূরত্ব প্রায় ২৭ কিলোমিটার। যেতে হয় সমুদ্র তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভ ধরে। ওই পথে রয়েছে দরিয়ারনগর ও হিমছড়ী ঝর্ণা। বেবিট্যাক্সি বা সিএনজি ট্যাক্সিতে ভাড়া লাগে প্রায় ৭শ’ টাকা। চড়া যায় ৫ জন। অর্থাত্ ৫ জন লোক মাত্র ৭শ’ টাকা খরচে মেরিন ড্রাইভ, দরিয়ারনগর, হিমছড়ী ও ইনানী ঘুরে আসতে পারেন।
বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক
ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে কক্সবাজারে আসার পথে কক্সবাজার শহরের প্রায় ৪৬ কিলোমিটার আগে রয়েছে দেশের একমাত্র বঙ্গবন্ধু সাফারী পার্ক। এই সাফারী পার্কে রয়েছে বাঘ, সিংহ, হাতিসহ বিভিন্ন প্রাণী। রয়েছে সুদৃশ্য লেক এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। কক্সবাজার শহরে আসার পথে অথবা ফেরার পথে দেখে নেয়া যেতে পারে পার্কটি। এছাড়া রামুতে রয়েছে ঐতিহাসিক লামারপাড়া ক্যাং, রামকোট বৌদ্ধ ও হিন্দু মন্দির, রাবারবাগান, দেশের সর্ববৃহত্ বুদ্ধমূর্তির বিদর্শন বিমুক্তি ভাবনা কেন্দ্র এবং রামুর অদূরে নাইক্ষ্যংছড়ী লেক। সাফারী পার্কের অদূরে পার্বত্য লামায় রয়েছে মেরেঞ্জা পর্যটন কেন্দ্র। কক্সবাজারে আসা যাওয়ার পথে বান্দরবানের বিভিন্ন পর্যটন স্পটও দেখে নেয়া যেতে পারে।
সেন্টমার্টিন
প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন দেখতে হলে সাগর পাড়ি দিয়ে যেতে হবে ওই দ্বীপে। ওই দ্বীপে যেতে টেকনাফ থেকে রয়েছে আরামদায়ক ও নিরাপদ জাহাজ কেয়ারি সিন্দবাদ এবং বে-ক্রুজ। টেকনাফ থেকে কেয়ারি সিন্দবাদে প্রায় ২ ঘন্টায় এবং বে-ক্রুজে মাত্র এক ঘন্টায় সেন্টমার্টিনে পৌঁছা যায়। ভাড়া জনপ্রতি ৬শ’ টাকা থেকে ১২শ’ টাকা পর্যন্ত। কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিনে আসা যাওয়া করতে প্রায় পুরো এক দিন ব্যয় হয়।
