লাশটি তাহলে কার?

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:২৫
খুলনায় কাজের মেয়ে সীমা হত্যা নাটকের অবসান হয়েছে। সীমা জীবিত ফিরে এসেছে। তবে সীমা ফিরে আসায় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশ যে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করে এতদিন সীমার লাশ বলে এসেছে সেই লাশটি কার? নগরীর মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার শিল্পপতি মাসুদ হাসানের বাসার কাজের মেয়ে সীমাকে হত্যার পর ডিপ ফ্রিজে রেখে দেয়ার অভিযোগে খালিশপুর থানার এসআই শাহআলম গত ১৪ অক্টোবর মাসুদ হাসান ও তার স্ত্রী ফাতিমা ইয়াসমিনকে গ্রেফতার করেন। সীমাকে হত্যার পর এক বছর ধরে ডীপ ফ্রিজে রেখে সুযোগ বুঝে বিলে ফেলে দিয়েছিল বলে পুলিশী তদন্তে বলা হয়েছিল। সেই সীমা রবিবার দুপুরে হাজির হয় খুলনার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিবুল হাসানের আদালতে। সীমার মা সুফিয়া বেগম ও মামা এখলাস গাজীও সীমার ছবি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে সনাক্ত করেছিলেন। কিন্তু আইন ও সালিশ কেন্দ্রের একটি প্রতিনিধিদলের সহায়তায় গতকাল রবিবার সীমাকে আদালতে হাজির করার পর পুরো আদালত চত্বরে এ নিয়ে হুলস্থুল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। কথিত হত্যা মামলার বিচার দাবি করে ইতিপূর্বে আন্দোলন-সংগ্রাম করা মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কো-অর্ডিনেটর এডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, তাদেরকে সীমার পরিবারের লোকেরা ভুল বুঝিয়েছিলেন। এদিকে গৃহকর্মী সীমাকে উদ্ধার করা হলেও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। প্রথমত: ডুমুরিয়া থানা পুলিশ যে মেয়েটির লাশ উদ্ধার করেছে তার পরিচয় কি, দ্বিতীয়ত: শিল্পপতি দম্পতিকে গ্রেফতার করার পর ওই দিন সীমার মা সুফিয়া বেগম, মামা এখলাস গাজী ও নড়াইলের ইতনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ মনিরুজ্জামান থানায় গিয়ে কেন বলেছিলেন ডুমুরিয়া থেকে উদ্ধারকৃত লাশটি সীমার। মা ও মামা আদালতে দাঁড়িয়ে লাশের ছবি সীমার বলে কেনইবা সনাক্ত করেছিলেন। তৃতীয়ত: সীমা হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী দুইজন সাক্ষী কিভাবে আদালতের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে ? সীমা কিভাবে চট্টগ্রামে গেল? এ ধরনের নানা প্রশ্ন নিয়ে রবিবার আলোচনা চলছিল আদালত চত্বর জুড়ে।