পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে বসতি সম্প্রসারণের ইসরাইলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ব্রিটেন এবং ফ্রান্স। দুটি দেশই ইসরাইলের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানাতে রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে। এদিকে, সুইডেনও জানিয়েছে সেদেশে নিযুক্ত ইসরাইলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। অন্যদিকে, রাশিয়া এবং জার্মানি কঠোরভাবে ইসরাইলের এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান ঘোষণা করেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের সিদ্ধান্তকে অন্যায় উল্লেখ করে কঠোর ভাষায় বিবৃতি দিয়েছে ব্রিটেন ও ফ্রান্স। খবর বিবিসির।
জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে অসদস্য পর্যবেক্ষক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার পর ক্ষুব্ধ ইসরাইল পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ৩ হাজার নতুন বসতি স্থাপন পরিকল্পনার ঘোষণা দেয়। এর পরপরই স্পর্শকাতর ওই অঞ্চলে ইহুদি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা শান্তি প্রতিষ্ঠায় ‘এক ভয়াবহ অশনি সংকেত’ বলে হুঁশিয়ার করেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন। যুক্তরাজ্য বলছে, ইসরাইলের এ পদক্ষেপ ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি স্থাপনের জন্য তাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করবে।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইসরাইলকে তাদের সিদ্ধান্ত আবারো ভেবে দেখার আহ্বান জানাচ্ছে। অন্যথায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।পরিকল্পনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতিতে আরো বলা হয়, এ পদক্ষেপ ইসরাইল-ফিলিস্তিন সমস্যার দ্বিরাষ্ট্রিক সমাধানের সম্ভাবনা ব্যাহত করছে।
ওদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেছেন, এ পদক্ষেপের প্রতিবাদ জানাতে সোমবার সকালের বৈঠকে তলব করা হয়েছে প্যারিসে নিয়োজিত ইসরাইলের রাষ্ট্রদূতকে। ইসরাইলকে সুষ্পষ্ট বার্তা দিতে যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্স একযোগে কাজ করছে বলে জানা গেছে। তবে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিশ্বব্যাপী নিন্দা-সমালোচনা উপেক্ষা করে রবিবার বসতি স্থাপন চালিয়ে যাওয়ায় অটল অবস্থান জানিয়েছিলেন। এর পরপরই বান কি মুন এ পরিকল্পনাকে ‘গভীর উদ্বেগের বিষয় ও হতাশাজনক’ বলে বর্ণনা করেন এক বিবৃতিতে। এরপর ব্রিটেন ও ফ্রান্সের পদক্ষেপে আরো চাপের মুখে পড়ে গেল ইসরাইল।
