‘হুমকি তো আছেই, কেউ নিরাপদ না’

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:২১

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশের প্রস্তুতি কতটা? বাংলাদেশে কি জঙ্গিদের এই মুহূর্তে বড় ধরনের হামলার সুযোগ আছে? নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘হলি আর্টিজানে হামলার পর জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কিছু বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ। তবে সুইসাইডাল গ্রুপ কিছু করলে তা তো আর নিরাপত্তা বাহিনীকে বলে করবে না। ফলে এখানেও জঙ্গি হামলার ঝুঁকি আছে। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশের কেউই এসব থেকে নিরাপদ নয়। আমাদের ভালো প্রস্তুতি থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই।’

সর্বশেষ গতকাল শনিবার জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) বাংলাদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে খবর এসেছে। টেলিগ্রাম অ্যাপস-এ প্রকাশিত বাংলায় লেখা একটি পোস্টারের সূত্রে এই হামলা পরিকল্পনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া গেছে। পোস্টারে বাংলায়  লেখা হয়েছে ‘শিগগিরই আসছি’। শ্রীলঙ্কার গির্জা ও হোটেলে ভয়াবহ হামলার     কয়েকদিনের মধ্যে এই হুমকির খবর সামনে এলো।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. সাখাওয়াত হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘কেউই আসলে নিরাপদ না। এখন কেউ যদি পাগল হয়ে নিজে মরতে চায়, তাহলে কে কী করবে? এখানে ১৬ কোটি মানুষ। কার মাথার মধ্যে কী আছে, সেটা তো আর বলা যাবে না। ফলে আমরা যে নিরাপদ আছি সেটা বলা যাবে না। নিশ্চয় আমাদেরও ঝুঁকি আছে। শ্রীলঙ্কায় যারা করেছে তারা লোকাল মুসলমান। বাইরের কেউ করেনি। এখন দেখা যাচ্ছে, ওই দেশের সরকারের কোনো আইডিয়াই ছিল না। তাই আমাদের একেবারে কিছু হবে বলা যাবে না। তবে আগের থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি ভালো হয়েছে। তারা ভালো কাজ করছে। ভিজিলেন্সও বেড়েছে। সব সময় হামলাগুলো একইভাবে হয় না। ওরা তো বছরের পর বছর ওয়াচ করে। আমার মনে হয়, এক-দুই বছর ধরে প্লানিং করে তারপর হামলা করেছে। এ কারণে হামলা তাদের মতে সফল হয়েছে।’

যদিও আইএসের এই হুমকির প্রেক্ষিতে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল শনিবার বলেছেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি সংগঠন বড় কোনো ঘটনা ঘটাতে পারবে না। আমরা নজরদারি করছি। নিউজিল্যান্ডে হামলার পর জঙ্গি চ্যানেলগুলোতে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে। তবে একটি হামলার জন্য যতগুলো রসদ লাগে এবং প্রস্তুতি লাগে তা এই মুহূর্তে তাদের নেই। জঙ্গি নেটওয়ার্ক আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। তবে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো আমাদেরও ঝুঁকি আছে, কিন্তু এই মুহূর্তে বড় কোনো জঙ্গি হামলার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই।’

নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক নুরুল হুদা ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলছিলেন, ‘আইন- শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে যেটা বলা হচ্ছে, সেটা হয়ত ঠিক। কিন্তু আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। আর এই হামলা কোথায় হবে, কীভাবে হবে সেটা তো এবসুলেট বলা যাবে না। হলি আর্টিজানের পর এখানে হয়ত বড় ঘটনা হয়নি, কিন্তু হবে না তা তো নিশ্চিত করে বলা যাবে না। তারা এলার্ট আছে, এটা ভালো। তারপরও সারা দুনিয়ার যে কোনো জায়গায় হঠাত্ সুইসাইডাল গ্রুপ কিছু করলে সেটা তো ঠেকানো যাচ্ছে না। এখন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীতে যারা আছেন তারা ভালো কাজ করছেন। তারা জানেন কীভাবে কাজটা করতে হবে। আমি তাদের পরামর্শ দেব, নজরদারিটা ঠিক রাখো। নিয়মিত মনিটরিংয়ের মধ্যে রাখো। তাহলে জঙ্গিরা কিছু করতে চাইলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নেটওয়ার্কে চলে আসবে।’

ব্রুনাইয়ে তিন দিনের সফর নিয়ে শুক্রবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ উদ্বেগের বিষয়। এদেশে অতীতে আমরা নিজেরাই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছি। জঙ্গিবাদের ঘটনাও ঘটেছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের এখনো ঝুঁকি আছে, কিন্তু সরকার যথেষ্ট সজাগ।’ সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করে তা প্রতিরোধে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জিয়া রহমান ইত্তেফাককে বলেন, ‘আমি মনে করি না আইএস’র সেন্ট্রাল থেকে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ হয় বা হামলার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। হলি আর্টিজান বা শ্রীলঙ্কায় যে হামলা— তা সেন্ট্রাল থেকে হয়েছে বলে মনে হয় না। এগুলো আইডোলজি থেকে হয়েছে। আসলে বাণিজ্য বা দেশকে নিয়ন্ত্রণ করার বিশ্ব প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে থার্ড পার্টিও এগুলো করতে পারে।