সাভারের আশুলিয়ায় তাজরীন গার্মেন্টস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারকে বিজিএমইএ ও প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সহায়তা আজ থেকে দেয়া শুরু হবে। আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ কার্যক্রম শুরু হবে। যাদের পরিচয় চিহ্নিত করা যায়নি তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করার পর পরিবারের কাছে সহায়তা দেয়া হবে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিজিএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এ তথ্য জানান সংগঠনের সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন।
বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, প্রথম পর্যায়ে নিহতদের পরিবারকে ৪ লাখ টাকা করে দেয়া হবে। পরবর্তীতে আরো সহায়তা দেয়া হবে। এছাড়া এসব পরিবারের দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব বিজিএমইএ নেবে বলে আগেই ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা নিহতদের পরিবারের পাশে সব সময় থাকতে চাই। ভবিষ্যতে তাদের পরিবারের জন্য কী করছি সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। সব পরিবারের সমস্যা একই রকম নয়। তাদের সমস্যার বিশ্লেষণ করে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, সবাই মিলে একসাথে কাজ করে এই সংকট উত্তরণ করবো। তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের পর বহিরাগতরা কারখানায় ধ্বংসলীলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এটি অর্থনীতির জন্য মঙ্গলজনক নয়।
তাজরীন ফ্যাশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিজিএমইএ’র তদন্ত কমিটির প্রধান এস এম মান্নান কচি বলেন, এ পর্যন্ত ৫১ জন আহত শ্রমিককে শনাক্ত করতে পেরেছেন তারা। তাদেরকে রাজধানীর এ্যাপোলো হাসপাতাল, ইউনাইটেড হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, ট্রমা সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিত্সা দেয়া হচ্ছে। ফাতেমা নামে এক শ্রমিকের অবস্থা আশংকাজনক। তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছে। অন্যদের অবস্থা উন্নতির দিকে। তিনি বলেন, আহত শ্রমিকসহ বেতন বা অন্যান্য বিষয়ে সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখতে বিজিএমইএ ও আশুলিয়ায় তাজরীন ফ্যাশনে তথ্য কেন্দ্র খোলা হবে।
শ্রমিকদের বেতন ৬ ডিসেম্বর দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিজিএমইএ সভাপতি। গত বৃহস্পতিবার শ্রমমন্ত্রী ৬ তারিখে বেতন দেয়ার ঘোষণা দিলেও ঐ দিন সন্ধ্যায় শ্রমিকদের সাথে এক বৈঠকে ৫ ডিসেম্বর বেতন দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। বিজিএমইএ জানায়, বেতন দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে ৯৯০ জন্য জীবিত শ্রমিকের তালিকা করা হয়েছে। নিহত হয়েছেন ১১০ জন। এখনো খোঁজ পাওয়া যায়নি ৪৪ জনের।
ক্ষতিপূরণ বাড়ানোর দাবিতে বিক্ষোভ
এদিকে গতকাল সকালে তাজরীন গার্মেন্টসে নিহত শ্রমিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেয়ার দাবিতে বিজিএমইএ ভবনের সামনে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস শ্রমিক সংহতি নামে একটি সংগঠন। বক্তারা এ ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত ও কারখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনকে গ্রেফতার, নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ, পোশাক কারখানার শ্রমিক মৃত্যু বন্ধ করা এবং আহতদের যথাযথ চিকিত্সার ব্যাবস্থা করা করার দাবি জানান। সংগঠনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, দাবি আদায় না হলে আগামী ৫ ডিসেম্বর সারা দেশে বিক্ষোভ এবং ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর কলকারখানা পরিদর্শকের কার্যালয় ঘেরাও করা হবে। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক নেতা বাহারানে সুলতান বাহার, হারুন অর রশিদ, শবনম হাফিজ, তাসলিমা আক্তার লিমা প্রমুখ।
