এসএনসি লাভালিনের রমেশ ও ইসমাইলের সঙ্গে কথা হয়েছে, দুদককে বললেন আবুল হোসেন

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:২৯
এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তা রমেশ শাহ ও ইসমাইলের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন। তবে তিনি বলেছেন, তাদের সঙ্গে বা এসএনসি লাভালিনের কোন কর্মকর্তার সঙ্গে এককভাবে কোন কথা বলিনি। রমেশ শাহ ও ইসমাইল কানাডা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী সম্পর্কে আবুল হোসেন বলেন, তিনি আমার কাছে এসেছিলেন এসএনসি লাভালিনের কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে। আমাকে অনুরোধ জানিয়েছেন এসএনসি লাভালিনের দর প্রস্তাব যেন সঠিকভাবে মূল্যায়িত হয়। তাকে আমি মূল্যায়ন/বিশেষজ্ঞ কমিটির উপর আস্থা রাখতে বলি। আবুল হাসান আমার নাম ভাঙ্গিয়ে কারো কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেবেন বলে আমি মনে করি না। গতকাল সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশনের কার্যালয়ে পদ্মা সেতুর দুর্নীতি সংক্রান্ত অনুসন্ধান কমিটির জিজ্ঞাসাবাদের জবাবে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬০ ধারা অনুযায়ী দেয়া জবানবন্দিতে আবুল হোসেন একথা বলেন। জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, এসএনসি লাভালিনের যে সকল কর্মকর্তা বা প্রতিনিধি আমার সাথে দেখা করেছেন, তাদের দেখলে এখন আর সনাক্ত করতে পারব না। গতকাল বিকাল ৩টা থেকে দেড় ঘণ্টা সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনুসন্ধান কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদকালে তিনি একটি লিখিত জবানবন্দি দেন। এতে তিনি বলেন, গত এক বছরব্যাপী পদ্মা সেতুর দুর্নীতির আশংকা প্রকাশ করে অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে। প্রথমে দুর্নীতি হয়েছে বলা হয়েছে, পরে বলা হয়েছে দুর্নীতির আশংকার কথা, এখন বলা হচ্ছে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের প্রতিটি পর্যায়ে স্বচ্ছতা, সততার সাথে কাজ করেছি। প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন কমিটির সদস্যদের কাছে কাউকে সহায়তার জন্যে অনুরোধ বা প্রভাবিত করার চেষ্টা করিনি। প্রজেক্ট ইভ্যালুয়েশন কমিটি গঠন সচিবের এখতিয়ার। কমিটি গঠনে, কমিটি পরিবর্তনে আমার কোন অভিপ্রায় ছিলো না। সচিব স্বীয় বুদ্ধি বিবেচনায় বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমন্বয় করে কমিটি গঠন ও পরিবর্তন করেছেন। পরামর্শক নিয়োগে আমার কোন নেতিবাচক সম্পৃক্ততা নেই। আবুল হোসেন বলেন, অন্যায়ভাবে অনুসন্ধান ও তদন্তের মাধ্যমে কারো মুখ রক্ষার জন্যে আমি যেন অহেতুক ক্ষতিগ্রস্ত না হই। দরপত্র মূল্যায়নের জন্যে কতবার কমিটি গঠিত হয়েছে তা আমার স্পষ্ট মনে নেই। মূলত এ ধরনের কমিটি গঠনের এখতিয়ার সেতু বিভাগের সচিবের। তিনি প্রকল্পের স্বার্থে মূল্যায়ন কমিটি নিজে গঠন করেন। আনুষ্ঠানিকতার কারণে তার সুপারিশসহ ফাইলে আমার স্বাক্ষর নিয়েছেন। বিশ্বব্যাংকের আপত্তিতেই দরপত্র মূল্যায়নের জন্যে সচিব বুয়েটের অধ্যাপক ড. সেকান্দার আলীর নেতৃত্বে কমিটি পুনর্গঠন করেন। ড. সেকান্দারের অপারগতার জন্যে কমিটি বাতিল করা হয়েছিল। তিনি বলেন, পরবর্তীকালে সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়। কিন্তু চার মাস অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও কমিটি সভা করতে না পারায় সচিব নিজের নাম বাদ দিয়ে নতুনভাবে কমিটি পুনর্গঠন করেন। সর্বশেষ প্রফেসর ড. জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বে কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। ওই কমিটি সামগ্রিকভাবে কারিগরি ও আর্থিক দরপত্র মূল্যায়ন করে কার্যাদেশ দেয়ার চূড়ান্ত সুপারিশ করেছিল। তাদের চূড়ান্ত মূল্যায়নে পরামর্শক নিয়োগের জন্যে তারা এসএনসি লাভালিনকে নির্বাচিত করেন। এক্ষেত্রে আমি কোন সুপারিশ বা নম্বর বাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করিনি। নিক্সন চৌধুরী সম্পর্কে আবুল হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু নিয়ে তার সাথে আমার কোন সাক্ষাত্ হয়নি। রমেশের ডায়েরি সম্পর্কে বলেন, তার ডায়েরিতে কিছু তিনি যদি লিখে থাকেন তা তার নিজস্ব ব্যাপার। এ কাজ প্রতারণার নামান্তর এবং অসত্য। পদ্মা সেতু সংক্রান্ত কোন বিষয়ে আমি কখনো কানাডাসহ বাইরের কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির সাথে টেলিফোন, ফ্যাক্স বা অন্য কোন মাধ্যমে যোগাযোগ করিনি। এ ধরনের কোন ঘটনা থাকলে তার সাথে আমি কোনভাবেই সম্পৃক্ত নই।