জামায়াত সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডেকেছে আজ

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩১
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামী আজ মঙ্গলবার সারাদেশে সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ঘোষণা করেছে। রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার জন্য পুলিশের নিকট থেকে অনুমতি না পাওয়ার প্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার হরতালের ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বিকাল ৩টায় তাদের পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার কথা ছিল। এদিকে হরতালের সমর্থনে জামায়াত-শিবির গতকাল বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে চোরাগুপ্তা ও ঝটিকা মিছিল বের করে। নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গতকাল ১৮ দলের আন্দোলন কর্মসূচি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের দেশব্যাপী আজ সকাল-সন্ধ্যা হরতালের কথা জানান। জামায়াতের হরতালে বিএনপিসহ জোটের সবার সমর্থন আছে কিনা—এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কোন মন্তব্য করেননি। জামায়াতের ডা. শফিকুর রহমান বিবৃতিতে বলেন, আমরা নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের অনুমতি না পেয়ে একান্ত বাধ্য হয়েই মঙ্গলবার দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালন করার আহবান জানাচ্ছি। জামায়াত নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত একটি রাজনৈতিক দল। আমরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও শান্তিপূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাসী। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত জামায়াতকে শান্তিপূর্ণভাবে কোন কর্মসূচি পালন করতে দেয়া হচ্ছে না। অথচ মিছিল, সভা-সমাবেশ করা গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকার। এ অধিকার ভোগ করার ব্যাপারে সরকার শুধু হয়রানি করছে না, অধিকন্তু দলের শীর্ষ নেতাদেরসহ হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে মামলা দিয়ে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে। গ্রেফতার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে তাদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। শুধুমাত্র কী সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি না পাওয়ার জন্য দেশব্যাপী হরতাল— এমন প্রশ্নে জামায়াতের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করে বলেন, যে কারণে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার কথা ছিল সে কারণেই হরতাল। জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের যেসব মামলা রয়েছে তা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে। এছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন, সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তি প্রদান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতি রোধ, সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও ইসলামী মূল্যবোধের উপর আঘাতের প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দলীয় সূত্র থেকে জানা যায়, বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার অনুমতি চেয়ে গত ২৯ নভেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রশাসনের নিকট আবেদন করা হয়। এছাড়া একইদিনে সারাদেশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সমাবেশ ও মিছিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আবেদন করার আগে দলের বর্তমান নেতৃত্ব বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয়—প্রকাশ্যে কর্মসূচি পালনে যদি পুলিশের নিকট থেকে অনুমতি না পাওয়া যায় তাহলে দেশব্যাপী হরতাল পালন করা হবে। গতকাল দুপুর ১২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এক বিবৃতির মাধ্যমে হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে সূত্র আরো জানায়, সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করার অনুমতি যে মিলবে না দলের নেতাদের আগে থেকেই এমন ধারণা ছিল। আর তা ই-মেইল ও মোবাইল টেলিফোনে এসএমএস দিয়ে সারাদেশে নেতা-কর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়। আর এ কারণে গতকাল বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির হরতালের সমর্থনে চোরাগুপ্তা ও ঝটিকা মিছিল বের করে। তবে পুলিশের ধাওয়ার মুখে মিছিলকারীরা দ্রুত শটকে পড়ে। এদিকে ১৮ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক রহমান গতকাল এক বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা আজকের সকাল-সন্ধ্যা হরতালের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন।