রমনা জোনের ডিসিসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে আদালতে তলব

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৫
সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির করে স্বীকারোক্তি আদায়ের অভিযোগে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা জোনের ডিসি নূরুল ইসলামসহ চার পুলিশ কর্মকর্তাকে তলব করেছে আদালত। আগামী ৬ ডিসেম্বর সশরীরে আদালতে হাজির হয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। তলবকৃত অপর কর্মকর্তারা হলেন নিউমার্কেট থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই শফিকুল ইসলাম, মামলার জব্দ তালিকা প্রস্তুতকারী এসআই নূর হোসেন ও ডিউটি অফিসার শফিউর রহমান। গ্রেফতারকৃত বিচারকের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্ট্রেট এম এ সালাম এ আদেশ দেন। এছাড়া ওইদিন তাদের প্রত্যেককে মামলাটিতে কেন ত্রুটিপূর্ণ জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হলো তা লিখিতভাবে আলাদা আলাদা ব্যাখ্যা দিতেও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইডেন কলেজের সামনে গত শনিবার সন্ধ্যায় ব্যাগভর্তি ৩৪২ বোতল ফেন্সিডিলসহ সিনিয়র সহকারী জজ মো. জাভেদ ইমামকে গ্রেপ্তার করে নিউমার্কেট থানার পুলিশ। একই থানার উপ-পরিদর্শক নূর হোসেন বাদী হয়ে মাদক আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। এরপর ওইদিন রাতেই বিচারককে সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি জানান, টাকা পাওয়ার শর্তে ফেনসিডিলের চালানটি যশোর থেকে তিনি নিয়ে এসেছেন। সুমন নামের একজন ঢাকায় লিংকন নামের এক লোকের কাছে এগুলো পৌঁছে দিতে বলেছেন। আদালতে সোপর্দ না করে সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজিরের অভিযোগে আবেদন করেন তার আইনজীবী প্রশান্ত কর্মকার। শুনানি শেষে আদালত উপরোক্ত আদেশ দেন। এদিকে সিনিয়র সহকারী জজ মো. জাভেদ ইমামকে সাময়িক বরখাস্ত এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়েরের আইন মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জেনারেল এ্যাডমিনেস্ট্রেটিভ (জিএ) কমিটি। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির অপর তিন সদস্যের মধ্যে দুইজন হাইকোর্টের বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি এটিএম ফজলে কবির উপস্থিত ছিলেন। জিএ কমিটির অনুমোদন করায় আগামী ৫ ডিসেম্বর ফুল কোর্ট সভায় তা চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্যে উত্থাপিত হবে। গত রবিবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য সুপ্রিম কোর্টে পাঠিয়েছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।