তৈরি পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানি কমেছে

আপডেট : ০৩ ডিসেম্বর ২০১২, ২২:৩৬
দেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়লেও বন্ড সুবিধার আওতায় এ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দেশেই উন্নত মানের কাঁচামাল পাওয়া যায় বিধায় বিদেশ থেকে আর কাঁচামাল আমদানি করতে হয় না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কাঁচামালের মধ্যে মূলত সুতা ও অন্যান্য এক্সসরিজ আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। দেশের সুতা কারখানাগুলোতে কয়েক বছর ধরে উন্নত মানের সুতা উত্পাদিত হচ্ছে। তাই গার্মেন্টস মালিকরা এখন স্থানীয় উত্স থেকে এ কাঁচামাল সংগ্রহ করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০১১ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ মোট ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৮ মেট্রিক টন পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করে। এর একবছর আগে একই সময়ে এ খাতে আমদানি হয়েছিলো ২ লাখ ৯৩ হাজার ৮৯৪ মেট্রিক টন কাঁচামাল। অর্থাত্ একবছরের মধ্যে আমদানি কমেছে ১৮ শতাংশ। এ হিসাব শুধুমাত্র চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউজের। অবশ্য এ সময়ে পোশাক রপ্তানির পরিমাণ বেড়েছে ১৮ শতাংশ। রাজস্ব বিভাগের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একসময় পোশাক শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল কাপড় আমদানি করে একটি অসাধু চক্র তা স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দিতো। এখন এই প্রবণতা উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। বর্তমানে দেশের বস্ত্র মিলগুলো নিজেরাই স্থানীয় বাজারে কাপড় যোগান দিচ্ছে। সূত্র জানায়, দেশে দীর্ঘদিন যাবত্ এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী বন্ড সুবিধার অপব্যবহার করে আসছে। পোশাক শিল্প মালিকদের প্রদত্ত পাস বই ডিজিটাল না হওয়ায় বন্ড সুবিধা অপব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় মাস্টার এলসির আওতায় কিছু ব্যবসায়ী চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পোশাক শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করছে। আবার একই এলসির সুবিধা নিয়ে অন্য বন্দর দিয়েও কাঁচামাল আমদানি করছে তারা। পাস বই ডিজিটাল করা হলে এই অনিয়ম করা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান। শুল্ক কর্মকর্তারা মনে করেন, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে। এজন্য সরকারকে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও জানান তারা। এসব ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে বন্ড লাইসেন্সের ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি করা, স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে ইউজার্স ডিক্লারেশন বা ইউডি ইস্যু করার ব্যবস্থা প্রবর্তন, শুল্ক কর্তৃপক্ষ এবং পোশাক শিল্প মালিকদের জন্য পৃথক ডিজিটাল পাশ বই তৈরি করা। দেশীয় শিল্পের স্বার্থ রক্ষা এবং রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য এ পদ্ধতি দ্রুত কার্যকর করার সুপারিশ করা হয়েছে।