ক্যাম্পাসে আড্ডার সেই মধুমাখা সময়

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৭:২৮
নাজমুল করিম রুমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান থেকে পাস করেছেন। চাকরি করেন একটি সরকারি ব্যাংকে। তবে অবসর পেলেই ছুটে আসেন প্রাণের ক্যাম্পাসে। পাঁচ বছর থেকে যাওয়া জিয়া হলের সামনে কিছু সময় পার করেন। একে একে প্রিয় জায়গাগুলোতে ঘোরেন আপন মনে। দেখেন নতুনদের দখলে যাওয়া আড্ডার স্পটগুলো! নতুন মুখের ছড়াছড়ি চারদিকে। শুধু নাজমুল করিম রুমি নয়। ভালোবাসার টানে পুরনো ক্যাম্পাসে ছুটে যান অনেকেই। নিজের ক্যাম্পাসের প্রতি টান থাকে না এমন মানুষ সম্ভবত খুঁজে পাওয়া যাবে না। যদিও নিজের ক্যাম্পাস কখনও পুরনো হয় না। নানানভাবে ক্যাম্পাস প্রতিনিয়ত জানান দেয়-এখনও আমার যুত্সই যৌবনা! বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মো: আরিফ হোসেন। পাস করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। পুরনো ক্যাম্পাস নিয়ে বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের কথা উঠলেই মন খারাপ হয়ে যায়। বন্ধুদের খুব মনে পড়ে। ভালো কিছু বন্ধু ছিলো আমার। এখনও সময় পেলে ক্যাম্পাসে আমরা সব বন্ধুরা মিলিত হই। গল্পে গল্পে কেটে যায় পুরো দিন।’ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করেছেন পিটু মাসউদ। দুই বছর আগে ক্যাম্পাসকে বিদায় জানিয়েছেন। তবে এখনও ক্যাম্পাসের মায়া কাটাতে পারেননি। সময় পেলেই চলে যান স্মৃতি বিজড়িত পুরনো ক্যাম্পাসে। আড্ডা আর গানে গানে পার করেন সময়। এক আকাশ ভালোবাসার সুরে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আমার পা পড়েনি। ক্যাম্পাস আমাকে ভীষণ টানে। ক্যাম্পাসের জন্য শুভ কামনা।’ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে পাস করেছেন নাসিমুল আহসান। ক্যাম্পাস ছেড়েছেন বছর খানেক হলো। পুরনো ক্যাম্পাস নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভাইরে ক্যাম্পাস বড় আবেগের জায়গা। মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে ঝুপড়িতে গিয়ে চুটিয়ে আড্ডা দিতে। তবে ইচ্ছা থাকলেও সময়ের অভাবে ক্যাম্পাসে যাওয়া হয় না। খুব মন কাঁদে শাটল ট্রেনের দোলায় দুলে স্বপ্ন বুনতে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র জাহিদ হোসেন ও সাইদুর রহমান। পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করেছেন তারা। দু’জনেই ভালো চারি করেন। থাকেন ঢাকাতে। নিজেদের ক্যাম্পাসকে পুরনো বলতে নারাজ দু’জনই। একটু মুচকি হেসে তারা বলেন, ‘ক্যাম্পাসে আসলেই আমাদের মন ভালো হয়ে যায়। ক্যাম্পাস আমাদের কাছে মন ভালো করার ট্যাবলেট বলতে পারেন!’ একথা বলেই দু’জন আবার হাসতে লাগলেন। এদিকে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি নিয়ে বর্তমানে ব্যবসা করছেন সেলিম হোসেন। আড্ডার কথা বলতে গিয়ে তিনি হারিয়ে যান অতীতের সেই ক্যাম্পাস জীবনে। তিনি বলেন, ‘আজ মনের দুয়ারে উঁকি দেয় সেই ক্যাম্পাস-জীবনের অসংখ্য ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থাকবে অথচ আড্ডা হবে না এটা ভাবাই যায় না। যে ক্যাম্পাসে আড্ডা নেই সেটি আসলে কোন ক্যাম্পাসই না।’ দেখি ক্যাম্পাসে আড্ডা নিয়ে নতুনরা কি বলে? জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনি এবং রত্না বলেন, ‘মনের যাবতীয় সুখ কিংবা দুঃখ একে অপরের সঙ্গে ভাগাভাগি করে মনকে হালকা করার এক অনন্য মাধ্যম এ আড্ডা। আড্ডা বিনোদনের এক চমত্কার মাধ্যম। বিভিন্ন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার একটা অনুশীলন হয় আড্ডার মাধ্যমে।’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যায়ের ছাত্র তপু রায়হান বলেন, ‘আড্ডার আলোচনা বেশিরভাগই হয় ক্যারিয়ার গঠনভিত্তিক। তবে সব সময় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাহিত্য, সংস্কৃতিসহ গঠনমূলক আলোচনা হয়। আবার অনেক সময় হাস্যরসের আড্ডাও হয়। আড্ডার মাধ্যমে জানাশোনার পরিধিকে অনেক বেশি প্রসারিত করা যায়। আড্ডা হলো জীবনের একটা অংশ। আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন অচল-অসার।’ ছবি: রানা