আমার প্রিয় স্কুল

বরিশাল জিলা স্কুল

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ১৮:১০
‘জ্ঞান অন্বেষণে এসো, সেবার জন্য বেরিয়ে পড়ো’। বড় বড় অক্ষরে লেখাটি দেখা যাবে বরিশাল জিলা স্কুলের মূল ফটকের এক পাশে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লেখা এ আহ্বানটি বিফলে যায়নি একদমই। বাংলার বাঘ খ্যাত শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, শরত্চন্দ্র গুহ, প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আব্দুর রহমান বিশ্বাস, যোগেশ চন্দ্র, ক্ষেত্রমোহন ঘোষসহ আরো অনেক বিখ্যাত ব্যক্তিই তার প্রমাণ। কারণ এ বিদ্যালয় থেকে জ্ঞান অর্জন করেই তাঁরা নেমেছিলেন মানব কল্যাণে। যার ধারাবাহিকতা থেমে নেই এখনো। ইতিহাসের পাতায় ফিরে তাকালে দেখা যায়, ১৮২৯ সালের ২৩ ডিসেম্বর মি.এন.ডব্লিউ গ্যারেট নিজ প্রচেষ্টায় স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তখন অবশ্য নাম ছিলো বরিশাল ইংরেজি স্কুল। আর প্রথম বছর ছাত্রসংখ্যা ছিল মাত্র আট। এর দু’যুগ পর অর্থাত্ ১৮৫৩ সাল থেকে সম্পূর্ণ সরকারি ব্যবস্থাপনায় বরিশাল জিলা স্কুল নাম দিয়ে পরিচালিত হতে থাকে বিদ্যালয়টি। ১৮১১ সালে আবার বেসরকারি ঘোষণা করলেও ১৯০৬ সালে পুনরায় সরকারিকরণ করা হয়। সে হিসেবে ১৮৩ বছরের ইতিহাস জড়িয়ে আছে বিদ্যালয়টিতে। যার ঐতিহ্য এবং আভিজাত্য এখনও বহমান। নগরীর প্রাণকেন্দ্র বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর সড়কে অবস্থিত বরিশাল জিলা স্কুল দক্ষিণাঞ্চলে উন্নত শিক্ষা বিস্তারে এখনও রাখছে ভূমিকা। বরিশাল বিভাগ তো বটেই সারা বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় বিদ্যালয়ের একটি আমাদের স্কুলটি। বর্তমানে প্রভাতী ও দিবা শাখার ৩য়-১০ম শ্রেণীতে শিক্ষার্থী আছে প্রায় ৩ হাজার। আর এ সকল শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে নিয়োজিত আছেন ৫৪ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা। ৩টি বড় আকারের ভবন ছাড়াও নিজস্ব অডিটরিয়াম, পাঠাগার, বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, মসজিদ, শহীদ মিনার, একটি বিমানের ভাস্কর্য এবং ২টি বৃহত্ মাঠ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। বরিশালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এ বিদ্যালয়টি প্রতি বছর P.S.C, J.S.C এবং S.S.C এ তিনটি পাবলিক পরীক্ষায় অর্জন করে চলেছে ঈর্ষনীয় সাফল্য। তবে তাই বলে শুধুমাত্র পুথিগত বিদ্যা বা শ্রেণিকক্ষেই সীমাবদ্ধ নয় বিদ্যালয়টির ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা। সুপ্ত প্রতিভা তথা সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকাশেও সচেতন আমরা। লেখালেখি, গান, আবৃত্তি, নাটক, বক্তৃতা, বিতর্কসহ নানা সহপাঠিক কার্যক্রমে এগিয়ে আছে বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির কয়েক ছাত্র প্রতি মাসে একটি শিশু পত্রিকা নিয়মিত প্রকাশ করে আসছে। লাল সবুজ নামক এ পত্রিকার মাধ্যমে বিদ্যালয়টিসহ পুরো বরিশাল বিভাগের ক্ষুদে লেখকরা হাত পাকাচ্ছে। বরিশাল ছাড়াও যে কোন স্থানে এ রকম শিশু লিখিয়েরা lal_sabuj @gmail.com এই ইমেইলে বা ০১৮৩৫১৩৫১৩৮ এই নম্বরে যোগাযোগ করে লেখা পাঠাতে পারে। এদিকে মানবতার সেবার বিদ্যালয়টিতে গড়ে উঠেছে স্কাউট, রেড ক্রিসেন্ট, বি.এন.সি.সি’র মতো ছাত্র সংগঠন। ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলায় সাফল্যের সাথে অংশ নিচ্ছে বিদ্যালয়টি। প্রাপ্তি অনেক, তবে সমস্যায়ও কম জর্জরিত নয় এ বিদ্যালয়টি। ছেলেদের জন্য জেলার একমাত্র বিদ্যালয় হওয়ায় দূর দূরান্ত থেকে অসংখ্য মেধাবী ছাত্র ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়। স্কুলটির একমাত্র ছাত্রাবাস বর্তমানে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী কার্যালয়ের কাজে ব্যবহূত হচ্ছে। শুধুমাত্র প্রধান শিক্ষকের জন্য সরকারি বাসভবন থাকলেও অন্য শিক্ষকদের জন্য এ ধরনের কোন ব্যবস্থা নেই। ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাত্রাতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে থাকতে হয় তাদের। স্কুলে আসা-যাওয়ার জন্য নেই কোন স্কুলবাস। শেরে বাংলার স্মৃতি বিজড়িত বরিশাল জিলা স্কুলে পড়তে পেরে গর্ববোধ করি আমরা। যুগে যুগে আরো শেরে বাংলা তৈরি করবে এ বিদ্যাপিঠটি এমনই প্রত্যাশা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের।