নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার এক বখাটের জ্বালাতনে নিষ্পাপ রিমিকে জীবন দিতে হলো। নারী নির্যাতন বন্ধের জন্য রাষ্ট্র অনেক পদক্ষেপ নিয়েছে কিন্তু তাতে করে নির্যাতন কি কমছে? না কমে থাকলে তার কারণ কী? শুধু কঠোর আইন করেই সমাজের এ ব্যাধিগুলো দূর করা যাবে? নারী নির্যাতনের জন্য বড় বড় অনেক আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কিন্তু কোনো কিছুতেই যেন দমানো যাচ্ছে না সভ্য সমাজের এ কীটগুলোকে। নারী নির্যাতনের প্রতিকার এবং সুফল পেতে হলে তার জন্য নিতে হবে দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল। খুঁজে বের করতে হবে বখাটেপনার উত্স। তার জন্য প্রয়োজন নৈতিকতা এবং আদর্শমূলক শিক্ষাব্যবস্থা। প্রতিটি ঘর থেকে হতে হবে প্রতিবাদ। বখাটেদের রুখে দাঁড়াতে হবে ঘর থেকে। কোনো ঘর যদি তার বখাটে ছেলেকে রুখতে ব্যর্থ হয় তাহলে সে পরিবারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে হবে। দেশের নারী ও শিশু রক্ষায় আইন প্রণয়ন করলেই তার সুফল পাবার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যাপীঠগুলোতে পুলিশের নিরাপত্তা বেষ্টনী বসাতে হবে। রাষ্ট্রকে দেখি একটা অঘটন শুরু হলে তারপর তত্পরতা চালাতে। যখন আর কিছুই করার থাকে না। এমন অঘটন ঘটেই চলেছে। সোনারগাঁয়ে রিমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হলো যার জন্য, তাকে দিতে হবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। শুধু বখাটেকে শাস্তি দিলেই চলবে না। তার পরিবারকেও আইনের আওতায় আনতে হবে বখাটে ছেলেকে কেন সামলাতে পারলো না। আমরা অনেক মেধাবী মুখ হারিয়েছি বখাটেদের কারণে। সেই মিষ্টি মুখগুলো আমাদের সামনে ভেসে ওঠে। নিষ্কৃতি পায়নি পঞ্চম শ্রেণির সেই ছোট্ট মেয়ে তিষা পর্যন্ত। যার মায়াবী মুখটা এখনো মনে পড়ে। আরেক সিমিনকে আমরা হারিয়েছি বখাটেদের জন্য। আর কত মেয়ে জীবন দিলে সমাজ থেকে এ কুলাঙ্গারগুলোকে দমন করা সম্ভব হবে? রাষ্ট্রের তাহলে দায়িত্ব কী? পুলিশ কেন বখাটেদের রুখতে পারলো না? সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ তাহলে করেটা কী? বখাটেদের কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে। তারা নেশা করে প্রথমে নিজের পরিবারকে জ্বালায়। তারপর বাইরে এসে চুরি-ছিনতাই করে। তাদের নেশার টাকার যোগান দিতে যে কোনো অঘটন ঘটাতে তারা কুণ্ঠাবোধ করে না। তাদের দরকার শুধু নেশার জন্য টাকা। পুলিশের পক্ষে কি মাদক বিক্রি রোধ করা কোনো কষ্টসাধ্য ব্যাপার?
সমাজের বখাটে এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো রাখতে হলে মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। মাদক কারা বিক্রি করে তা পুলিশের না জানার কথা নয়। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মাদকের বিরুদ্ধে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে করে সোনারগাঁ থানার অবস্থা এতটা খারাপ কী করে হলো সেটা তাঁকে আরো বিশদভাবে ভেবে দেখতে হবে। কোন কোন পুলিশ অফিসারের সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীদের সখ্য রয়েছে তা খুঁজে বের করতে হবে। আমরা আর কোনো মেধাবী মুখ হারাতে চাই না।
মুন্সীগঞ্জ
