প্রবীণ সাংবাদিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সদস্য মাহফুজউল্লাহ আর নেই। তিনি গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টায় থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, দুই মেয়েসহ অসংখ্য সহকর্মী, ভক্ত, গুণগ্রাহী রেখে যান।
মাহফুজউল্লাহ বেশ কিছুদিন ধরে হূদরোগ, কিডনি ও উচ্চ রক্তচাপসহ নানা জটিল রোগে ভুগছিলেন। গত ২ এপ্রিল তিনি রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। পরে উন্নত চিকিত্সার জন্য বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। লাশ আসা সাপেক্ষে আজ বাদ আসর জাতীয় প্রেসক্লাবে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। মাহফুজউল্লাহ ১৯৫০ সালে নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ঊনসত্তরের ১১ দফা আন্দোলনে অংশ নেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিদ্যায় স্নাতক ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন। ১৯৭২ সালে সাপ্তাহিক বিচিত্রার সূচনা থেকে কাজ করেন। বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য বাংলা ও ইংরেজি দৈনিকেও সাংবাদিকতা করেন। পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক ছিলেন। তিনি ৫০টিরও বেশি গ্রন্থের রচয়িতা। তিনি দেশে পরিবেশ সাংবাদিকতার সূচনা করেন। টেলিভিশনের টক শোতে জনপ্রিয় মুখ ছিলেন তিনি।
মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুতে জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদ, গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন শোক জানিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন এক বিবৃতিতে প্রবীণ সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহর মৃত্যুতে গভীর শোক এবং দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
