চিকিত্সক সংকট তীব্র ব্যাহত স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৫
দেশের উত্তরাঞ্চলীয় দুই জেলা রংপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে চিকিত্সা ব্যবস্থার অবস্থা করুণ। রংপুরের গঙ্গাচড়ার গ্রামীণ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু ঐ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কখনোই প্রয়োজনীয় চিকিত্সক থাকেন না। তারা আসেন আবার বদলি নিয়ে চলে যান শহরে। আর ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১৯ জন চিকিত্সক থাকার কথা থাকলেও আছেন মাত্র ৭ জন। এতে ব্যাহত হচ্ছে চিকিত্সা সেবা। জানা যায়, ডা. আসাদুজ্জামান গত ২৯ মে গঙ্গাচড়ায় যোগ দিয়ে ঐ দিনই ছাড়পত্র নিয়ে রংপুরের তাজহাটের ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজিতে (আইএসটি) সংযুক্ত হন। ডা. মামুনুর রশিদ গত ৯ এপ্রিল গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগদান করে পরদিন ছাড়পত্র নিয়ে রংপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চলে যান। ডা. হিরম্ভর কুমার গত ২৯ মে যোগদান করে ঐ দিনে ছাড়পত্র নিয়ে আইএসটিতে সংযুক্ত হন। ডা. আব্দুর রউফ গত ১৫ সেপ্টেম্বর যোগদান করার পরদিন ছাড়পত্র নিয়ে আইএসটিতে সংযুক্ত হন। ডা. ফারজানা শারমিন ২০১০ সালে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দিয়ে ৬ নভেম্বর রংপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে সংযুক্ত হন। ডা. ফারজানা ইসলাম অনুমতি না নিয়ে বহুদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত আছেন। ডা. সাদিয়া নূরও বহুদিন ধরে অনুপস্থিত। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিত্সকের ২১টি পদ থাকলেও বর্তমানে আছেন ১০ জন চিকিত্সক। উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্য ১০ জন ডাক্তার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে দুই ইউনিয়নে চিকিত্সক আছেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট অর্থোসার্জারি, জুনিয়র কনসালটেন্ট কার্ডিওলজি, জুনিয়র কনসালটেন্ট চক্ষু, জুনিয়র কনসালটেন্ট চর্ম ও যৌন, ডেন্টাল সার্জন, ইএমও (ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার), আইএমও (ইনডোর মেডিক্যাল অফিসার) এবং এনেসথেটিস্টের পদ খালি রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু মো. জাকিউল ইসলাম চিকিত্সক সংকটের কথা স্বীকার করে বলেছেন জোড়াতালি দিয়ে কোনরকমে হাসপাতাল চলছে। এদিকে ২০১০ সালে ১৪ অক্টোবর পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতাল ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। কিন্তু লোকবল রয়েছে আগের মতোই। পীরগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে নয় জন ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১০ জন মিলে মোট ১৯ জন চিকিত্সকের পদ থাকলেও কর্মরত আছেন মাত্র সাত জন। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারসহ ১২টি চিকিত্সকের পদ শূন্য থাকায় রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিত্সা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। জানা যায়, বর্তমানে পীরগঞ্জ হাসপাতালে জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনি ডা. নজরুল ইসলাম, মেডিক্যাল অফিসার রুসুলে হাবিব ও জান্নাতুল ফেরদৌস এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন তপন কুমার কর্মরত আছেন। এছাড়া ডেপুটেশনে সেনগাঁও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে ডা. সোহেল রানাকে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারের, জাবরহাট ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডা. আবদুল মজিদ এনেসথেসিয়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হওয়ায় এম এন এইচ প্রকল্পের আওতায় সিজারিয়ানের জন্য, বৈরচুনা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডা. কামালকে উপজেলা হাসপাতালে, মেডিক্যাল অফিসার হিসাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। হাসপাতালটি জেলার মধ্যবর্তী স্থানে হওয়ায় পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পার্শ্ববর্তী বোচাগঞ্জ, রানীশংকৈল ও হরিপুর উপজেলার রোগীরাও চিকিত্সা নিতে আসেন। এই হাসপাতালে বহির্বিভাগে প্রতিদিন তিনশ’ রোগী আসে। তাদের চিকিত্সা দিতে হয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিজস্ব দু’জন এবং ডেপুটেশনে থাকা একজন মেডিক্যাল অফিসারকে। এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফীজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, উচ্চ পর্যায়ে যোগাযোগ করে চিকিত্সকরা এখান থেকে বদলি হয়ে অন্য জায়গায় চলে যান। তাই পদ শূন্য রয়েছে।