রাজশাহীতে দণ্ডিত বন্দির জালিয়াতি করে মুক্তিলাভ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:০৮
রাজশাহীর আদালতে বিচারকের রায় জালিয়াতির মাধ্যমে মাদক মামলায় দণ্ডিত এক আসামিকে মুক্ত করার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। গত ২৮ নভেম্বরের এই ঘটনায় রাজশাহীর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের পেশকার সোহেল রানাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত (সাসপেন্ড) এবং জেলা ও দায়রা জজ হোসেন শহীদ আহমদ ঘটনাটি তদন্ত করছেন। এদিকে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্ত এক বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মোঃ আরিফের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে সাসপেন্ডকৃত পেশকার সোহেল রানা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। আদালত সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের ১৭ আগস্ট নগরীর রাজপাড়া থানার হড়গ্রাম পশ্চিমপাড়ার মৃত আরত আলী শেখের ছেলে মোঃ আরিফকে পুলিশ ৩ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করে। তার বিরুদ্ধে ঐদিনই গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোঃ সানাউল হক রাজপাড়া থানায় মামলা করেন। গত ২৮ নভেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিশ্বনাথ মণ্ডল, আসামি মো. আরিফকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ২ মাসের কারাদণ্ডের রায় দেন। রায় ঘোষণার পর বিচারক আসামিকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু রায়ের একদিন পর রাজশাহী বারের এক আইনজীবীর অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে দণ্ডিত আসামি আরিফকে জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তি দেয়া হয়েছে। কাজটি করেন ঐ আদালতের পেশকার সোহেল রানা। এ ঘটনায় আইনজীবীরা জেলা ও দায়রা জজের কাছে অভিযোগ করেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে দায়রা জজ অভিযুক্তকে সাসপেন্ড করেন। আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান চাঁদ বলেন, তিনি আসামি আরিফের বিরুদ্ধে মামলার শুনানি করছিলেন। একদিন আসামি জানান, তাকে ওই মামলার শুনানি করতে হবে না। তিনি আদালতের লোকজন ম্যানেজ করে মামলা থেকে খালাস পাবেন। এ বিষয়ের রহস্য উদঘাটনে তিনি নিজের জুনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট বেলালউদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। গত ২৮ নভেম্বর মামলার দিন ধার্য ছিল। ওই দিন দুপুরে অ্যাডভোকেট বেলালউদ্দিন আদালতে গিয়ে জানতে পারেন, আসামি আরিফ ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৩ ধারায় আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। এ কারণে আদালত তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এরপর আদালতের হাজতখানায় গিয়ে তিনি আসামি আরিফের সন্ধান করেন। কিন্তু আসামিকে পাওয়া যায়নি। হাজতখানার কর্তব্যরত পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মনির হোসেন তাকে জানান, আসামি আরিফের জামিন হয়েছে। জামিন সংক্রান্ত পেশকারের সিলসহ পাঠানো কাগজ দেখে তাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে।