গুম হওয়া অর্ধশত ব্যক্তির স্বজনের কান্না থামছে না

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০১৯, ২২:৩৭

বাবার জন্য সন্তান কাঁদছে, সন্তানের জন্য কাঁদছে মা। স্বামীর জন্য স্ত্রী কাঁদছে, ভাইয়ের জন্য ভাই। কারো আপনজন কয়েক বছর আগে, কারো বা হারিয়েছে কয়েক মাস হলো। নিখোঁজ মানুষগুলোর জন্য পরিবারের সদস্যদের শুধু কান্না আর কান্না। কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি তো মানবতার মা। আপনি কি আমাদের কান্না শুনতে পান না? আপনি আমার নিখোঁজ ভাইকে খুঁজে দিন। আপনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান। ভাইকে খুঁজতে খুঁজতে আজ আমি কাঁদতেও ভুলে গেছি।’ গতকাল সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গুম ও গণতন্ত্রের সংকট’ শীর্ষক এক আলোচনায় বিএনপি নেতা সাদেকুলের বোন মারুফা বেগম এভাবে তার ভাইয়ের গুমের ঘটনার বর্ণনা দেন।  

২০১৩ সালের ৪ জানুয়ারি র্যাবের পোশাক পরিহিত একটি বাহিনী প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে যায় বিএনপি নেতা সাদেকুলকে। এরপর সাদেকুলকে খুঁজে বের করতে র্যাব ৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছিল। আমরা আশা করেছিলাম সাদেকুলকে ফেরত পাবো। কিন্তু  আজও ফেরত পাইনি।

মারুফার মতো আরো অর্ধ শতাধিক পরিবার এ আলোচনায় স্বজনদের গুম হওয়া এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে স্বজনের খোঁজ পেতে গিয়ে নানাভাবে লাঞ্ছিত হওয়ার বর্ণনা দেন। এমনকি গুম হওয়া ব্যক্তিরা বিএনপি করার কারণে তাদের সন্তানদের বার বার ধরে নিয়ে টাকা আদায় করারও অভিযোগ উঠে আসে পুলিশের বিরুদ্ধে। মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আয়োজনে এ আলোচনা সভায় বিভিন্ন সময়ে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. শাহদীন মালিক। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আনু মোহাম্মদ, নাগরিক কমিটির ব্যারিস্টার সারা হোসেন প্রমুখ।

আলোচনা সভায় পল্লবী থানার যুবদল নেতা নুরে আলমের স্ত্রী বীণা বেগম বলেন, ২০১৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি গাজীপুরের বাসা থেকে পুলিশের লোকজন তার স্বামীকে তুলে নিয়ে গেছে। কিন্তু থানা ও ডিবিসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তরে গিয়েও আজ   পর্যন্ত তার স্বামীর খোঁজ পাননি।

২০১০ সালের ১ মার্চ দক্ষিণখান থানা এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রদল নেতা মানিককে। আজও মানিকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। মানিকের ভাই বলেন, ‘আমাদের কান্না কেউ শোনে না।’

২০১৫ সালের ২২ জানুয়ারি নিউমার্কেট থানা এলাকা থেকে গুম হন ছাত্রদল নেতা মাহবুবুর রহমান বাপ্পী।

আলোচনার শুরুতে মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৫০৭ জন ব্যক্তি গুমের শিকার হয়েছেন। ২০১৭ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এক বছরে ৮০ জনকে গুম করা হয়েছে। ২০১৯ সালে জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত ১২ জন গুম হয়েছেন। এর মধ্যে ২ জনের লাশ পাওয়া গেছে, ১ জন ফিরে এসেছে, ৫ জনকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গ্রেফতার দেখিয়েছে আর ৪ জনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।