টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নে কর্মসৃজনের ২৮ লাখ টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ২টি প্রকল্পে হরিলুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দৈনিক ৪শ শ্রমিক কাজ করার কথা থাকলেও মাত্র ১শ শ্রমিক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এছাড়া একটি প্রকল্পে অপ্রয়োজনীয় স্থানে মাটি ফেলে অন্য একজনের চিংড়ি প্রকল্পকে সুরক্ষা দেয়ায় এলাকার লোকজনের মাঝে ক্ষোভ দানা বেঁধে উঠছে।
অভিযোগ পেয়ে সম্প্রতি একদল সাংবাদিক সরেজমিনে পরিদর্শনে গেলে দেখা যায়, শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া থেকে ৪নং স্লুইচ গেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার প্রকল্পে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে মোট ৪৩ জন শ্রমিক কাজ করছে। অথচ এখানে ৪০ দিনব্যাপী ২০০ জন শ্রমিকের প্রতিদিন কাজ করার কথা। সরকারি কর্মসূচি অনুসারে ৪০ দিনব্যাপী কর্মসৃজনের লক্ষ্যে এসব উন্নয়ন কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পে কর্মরত ৪৩ জন শ্রমিকের মাঝি (সর্দার) আবদুল আজিজ ওরফে কালা বাশি মাঝি জানান, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দৈনিক ২০০ টাকা ভিত্তিতে শ্রমিকরা কাজ করছে। তিনি জানান, গত ১৪ দিন ধরে তারা এ কাজ করছেন। যে স্থানে মাটি ফেলা হচ্ছে মূলত সেটি বেড়িবাঁধ হলেও এখন পর্যন্ত ভালো অবস্থায় আছে। আর ওই বেড়িবাঁধের কাছে জনৈক ইউপি মেম্বারের মালিকানাধীন আনুমানিক ২৫ একরের একটি চিংড়ি প্রকল্প রয়েছে। ওই চিংড়ি প্রকল্পের তিনদিকেই বেড়িবাঁধ। এ সুযোগে চিংড়ি প্রকল্পটিকে রক্ষা করা হচ্ছে। অথচ ওই ১৪ লাখ টাকা দিয়ে এবং প্রতিদিন ২০০ শ্রমিককে কাজ দিয়ে প্রধান সড়কের ভেঙ্গে যাওয়া প্রায় ৮০০ ফুট দীর্ঘ একটি রিং বাঁধ নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসীর উপকারে আসতো। বেঁচে যেত প্রতিদিন অন্তত ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত যাতায়াত খরচ এবং অন্তত ১ হাজার একর জমিতে সময়মতো লবণের চাষ করা সম্ভব হতো।
অপরদিকে শাহপরীর দ্বীপ প্রধান সড়ক থেকে ক্যাম্পপাড়া মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার কাজ চলছে। এ প্রকল্পেও দৈনিক ২০০ জন শ্রমিকের ৪০ দিন কাজ করার কথা রয়েছে। গত ২৮ নভেম্বর দুপুরে এ প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ওই সময় কোন শ্রমিক কাজে নেই। তবে প্রকল্প চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য আবদুস ছালামের একজন সমর্থক জানান, শ্রমিকরা দুপুরের খাবার খেতে যার যার বাড়িতে গেছে। এ সময় উপস্থিত কয়েকজন জানান, প্রায় ৬০/৬৫ জন শ্রমিক প্রতিদিন এ প্রকল্পে কাজ করে।
এ ব্যাপারে স্থানীয় সাবরাং ইউপি চেয়ারম্যান ও শাহপরীর দ্বীপ জালিয়াপাড়া থেকে ৪নং স্লুইস গেট পর্যন্ত বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজের প্রকল্প চেয়ারম্যান হামিদুর রহমান জানান, প্রতিজন শ্রমিকের জন্য প্রতিদিন সরকারি বরাদ্দ ১৭৫ টাকা। কিন্তু এলাকায় সে দামে শ্রমিক পাওয়া যায় না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিজনকে দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরি দিতে হয়। এজন্য কিছু শ্রমিক কম রাখতে বাধ্য হয়েছেন তিনি। তবে ভালো বাঁধের উপর মাটি ফেলে অন্যের চিংড়ি প্রকল্পকে সুরক্ষা দেয়ার কথা তিনি অস্বীকার করে বলেন, ওই বাঁধও সংস্কার প্রয়োজন বিধায় তা করা হচ্ছে।
