ক্যারিবীয় কোচ ওটিস গিবসনকে বাউন্সার দিয়ে সংবাদ সম্মেলন শুরু বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের। প্রথম দুই ওয়ানডে ম্যাচে সফরকারীরা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে, ক্যারিবীয় এই কোচের মন্তব্যে মুশফিকের পাল্টা আক্রমণ, ‘উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে ঠিকই কিন্তু আমরাও তাদের বাধ্য করেছি আউট হতে’।
কথার বাউন্সারে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করলেও আজ বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাঁচ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয়টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ঘায়েল করতে চায় বাংলাদেশ। এমনিতে সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশের সামনে আছে আজই সিরিজ জয়ের হাতছানি। মিরপুরে দুপুর আড়াইটায় শুরু হতে যাওয়া দিবা/রাত্রির ম্যাচটি জিতলেই ওয়ানডে সিরিজ তাদের। জেতার মঞ্চও প্রস্তুত, এখন শুধু প্রয়োগের পালা।
অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাল যেন বারবার এই একটি কথা বোঝাতে চাইলেন। সেই সাথে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সতর্কও করে দিয়েছেন তিনি। দুই ম্যাচ জিতে মানসিকভাবে এগিয়ে থাকলেও আড়ালে কি একটুও চাপে নেই স্বাগতিকরা? চাপে থাকার শংকা উড়িয়ে দিয়ে মুশফিক বলেন, ‘ওরা যেভাবে হেরেছে তাতে মনে হচ্ছে ওদের উপরই চাপ বেশি। আমাদের আত্মবিশ্বাস রয়েছে। তাই আমাদের উপর নয় ওদের উপর চাপ বেশি। আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে জিতেছি। সেটা সাধারণ কোন জয় নয়। আমরা এক কিংবা ১০ রানে জিতেনি। অনেক বড় ব্যবধানে জিতেছি যেটা প্রমাণ করে আমরা ওদের চেয়ে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলছি। কাল (আজ) এর ধারাবাহিকতা থাকলে আমাদের পক্ষে ফল আসবে’।
সাকিববিহীন বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্সও বিস্ময়ের মত। তরুণ ক্রিকেটাররাই দলের হাল ধরেছেন। প্রথম দুই ম্যাচে বাংলাদেশকে জয় উপহার দিয়েছেন তরুণরাই। সাকিববিহীন বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স কবে দেখিয়েছে তা মনে করতে হবে স্মৃতি হাতড়ে। এ প্রসঙ্গে অধিনায়ক মুশফিক অবশ্য কিছুটা কূটনীতিক কেতায় বলেন, ‘সাকিব না থাকলেও দল ভালো করছে তা নয়। সে থাকলে দল আরো ভালো করতো। তার মত খেলোয়াড় দলে থাকাটা সৌভাগ্যের। আশা করছি, সে খুব শীঘ্রই দলে ফিরে আসবে। তাছাড়া এই সিরিজে অনেক তরুণ ক্রিকেটাররা রয়েছে তাদের জন্য বড় সুযোগ এটি। তারা ভালো খেললে দলের আত্মবিশ্বাস বাড়বে। অনেক পারফর্মার রয়েছে দলে। সাকিব-তামিম ছাড়াও দলের অনেকে ভালো খেলছে। এটা আপনারাও দেখতে পাচ্ছেন। তরুণরা যারা যেভাবেই খেলুক না কেন ভালো খেললে আত্মবিশ্বাস বাড়বে’।
খুলনার পর মিরপুর। দুটি ওয়ানডে জেতার পর দলের ভিতরে জেতার যে মানসিকতা হয়েছে তাই যেন বাংলাদেশের মূল পুঁজি। প্রতিপক্ষকে হারানোর সব পরিকল্পনাই নিয়ে রেখেছেন, তবে সঙ্গে ক্যারিবীয়দের নিয়ে আলাদা দুশ্চিন্তা ভর করছে স্বাগতিকদের মনে। মুশফিক তা লুকাননি, ‘দেখুন, ওরা বিপজ্জনক দল। যে কোন সময় ওদের ফেরার সামর্থ্য রয়েছে। আমাদের যখন পার্টনারশীপ দরকার এবং যখন উইকেট দরকার-এসব জায়গায় যদি ক্লিক করতে পারি তবে ইনশাআল্লাহ আমরাই জিতবো’
সিরিজ নিশ্চিতের জন্য বাংলাদেশের দরকার আর একটি জয়। এজন্য খেলতে হবে ভালো ক্রিকেট এবং চাই ভালো উইকেট। তবে উইকেটের চেয়েও বেশি দুশ্চিন্তা কুয়াশা নিয়ে। কাল সন্ধ্যায় কুয়াশা দেখে একটু বিচলিত মনে হয়েছে অধিনায়ককে। মুশফিক অবশ্য হতাশ নন, বরং তিনি বললেন, ‘এত কুয়াশা দেখে একটু অবাকই লাগল। কিটপ্লাই কাপে ২৯৬ রান করেও ভারতের সাথে হেরে গিয়েছিলাম আউটফিল্ডের কারণে। আমরা চেষ্টা করবো সেভাবে দল ব্যালেন্স করার’।
সিরিজে এখনো তিন ম্যাচ বাকি। একটি জিতলেই সিরিজ জিতবে স্বাগতিকরা। দলের প্রতিটি সদস্যেরই এটা ভালোভাবে জানা রয়েছে। অধিনায়ক হিসেবে এই সমীকরণটা দলের কাউকে বিশেষভাবে মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন হয়নি মুশফিকের। বরং আজকের ম্যাচ নিয়ে দলের কারো কারো নিজস্ব পরিকল্পনা রয়েছে।
সিরিজ জিততে হলে গত দুই ম্যাচের ধারাবাহিকতাই বজায় রাখতে হবে। এই জিনিস একজন অধিনায়ক হিসেবে আর কিছুই চাওয়ার নেই। মুশফিক বলেন, ‘গত দেড় বছর ধরে ওয়ানডেতে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো ক্রিকেট খেলে আসছি। বিশেষ করে নিজেদের মাঠে। এটা অনেক বড় সুযোগ এবং প্রেরণা যে আমাদের সামনে ভালো কিছু করার দারুণ একটি সুযোগ আছে সিরিজ জয়ের। এটা সবার মাথায় আছে। আশা করবো গত দুইটা ম্যাচ আমরা যেভাবে তিন বিভাগে ভালো খেলেছি সেটা ধরে রাখবো’।
