কুমিল্লায় এফআইসিএলের ব্যাংক হিসাব জব্দ গ্রাহকরা আতংকে

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৪৭
কুমিল্লায় ফারইস্ট ইসলামী কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের (এফআইসিএল) সব ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ জানাজানি হওয়ার পর গ্রাহকদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে। মাল্টিপারপাস সমিতি নামে কুমিল্লায় ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানের মালিকরা প্রতি মাসে লোভনীয় লভ্যাংশ (সুদ) দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমানত গ্রহণের নামে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এরই মাঝে এফআইসিএলের সব ব্যাংক হিসাব জব্দের খবরে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন লাখ টাকায় মাসে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা পাওয়ার আশায় কষ্টার্জিত অর্থ আমানত রাখা গ্রাহকরা। জানা যায়, কুমিল্লার সমবায় প্রতিষ্ঠান এফআইসিএল’র সব ব্যাংক হিসাব জব্দ করতে ব্যাংকগুলোকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়করের হিসাবে ব্যাপক গড়মিল থাকায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এ বিষয়ে গত বৃহস্পতিবার একটি পরিপত্র জারি করে। এদিকে ব্যাংক হিসাব জব্দে এনবিআর কর্তৃক ব্যাংকগুলোকে আদেশ দেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে এফআইসিএল’র চেয়ারম্যান মোঃ শামীম কবির মোবাইল ফোনে বলেন, ‘এক বছর আগে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি ব্যাংক হিসাব আমি বন্ধ করেছিলাম। ঐ বিষয়টি নিয়ে হয়তো কেউ ঈর্ষান্বিত হয়ে অভিযোগ করেছে। কয়েকদিনের মধ্যে এনবিআর থেকে আবার সব ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়ার চিঠি আসলেই সব ঠিক-ঠাক হয়ে যাবে।’মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানায়, তারা ব্যাংকের চেয়ে অধিক লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় কষ্টার্জিত টাকা ডিপোজিট রেখেছেন। প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে লভ্যাংশ পরিশোধের কথা থাকলেও কয়েক মাস নিয়মিত পরিশোধের পর শুরু হয় হয়রানি। একপর্যায়ে গ্রাহক তার ডিপোজিটের আসল টাকা ফেরত চাইলে দেব-দিচ্ছি বলে মাসের পর মাস ঘুরিয়ে না দিয়ে হয়রানি করে যাচ্ছে। এতে নিরুপায় গ্রাহকরা কষ্টার্জিত অর্থ না পাওয়ার ভয়ে কোনরূপ পদক্ষেপ নিতেও সাহস পাচ্ছে না। এ অবস্থায় এফআইসিএল’র ব্যাংক হিসাব জব্দ করার আদেশের খবরে আতংকগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ টাকা ডিপোজিটকারী মাল্টিপারপাস নামধারী প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকরা। জেলা সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২০০০ সালের ১৯ মে পর্যন্ত কুমিল্লায় ১ হাজার ৭৫১টি বহুমুখি/মাল্টিপারপাস নিবন্ধন দেয়া হয়। বর্তমানে এসবের ১ হাজার ৫০৮টি কার্যকর ও ২৪৩টি অকার্যকর অবস্থায় রয়েছে। এসব সমিতির কার্যক্রম সমবায় আইন অনুযায়ী কতটুকু পরিচালিত হচ্ছে প্রশ্নবিদ্ধ বলে জানিয়েছেন সমবায় বিশ্লেষকরা। তারা বলেছেন, স্বল্পসংখ্যক প্রতিষ্ঠান আছে যাদের বিরুদ্ধে তেমন অভিযোগ নেই, তবে বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই গ্রাহক হয়রানির কম-বেশি অভিযোগ রয়েছে।