নয় বছর বেগমগঞ্জ আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫২
রাজনীতির ক্ষেত্রে নোয়াখালী গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলেও ২০০৩ সালের পর বেগমগঞ্জ উপজেলা ও চৌমুহনী নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়নি। এতে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে গাছাড়া ভাব দেখা দিয়েছে। এক সময় বৃহত্তর নোয়াখালীতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ স্থান ছিল চৌমুহনী তথা বেগমগঞ্জ। পাকিস্তানী সামরিক শাসক আইয়ুব খানের সামরিক শাসন প্রথম ভঙ্গ করা হয়েছিল চৌমুহনীতে (নোয়াখালী জেলা সদর দপ্তর ফেনীতে করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চৌমুহনীতে ১৯৬০ সালের ১০ জানুয়ারি সড়ক অবরোধ করে কোন সরকারি কর্মকর্তাকে ফেনী যেতে দেয়া হয়নি। এর ফলে তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর আযম খান ফেনীতে এলেও জেলা সদর দপ্তরের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন না করে ঢাকায় চলে যান। পরে চৌমুহনী এবং মাইজদীর বিশিষ্টজনেরা বসে আলোচনার ভিত্তিতে মাইজদীতে জেলা সদর দপ্তর স্থাপন করেন। বেগমগঞ্জের এক ত্যাগী নেতা জানান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক দিয়ে চৌমুহনীর গুরুত্ব থাকলেও কালক্রমে তা কমে এসেছে। কারণ নেতাদের মধ্যে বিভক্তি, সঠিক নেতৃত্বের অভাব, নেতাদের অহমিকা ভাব, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে গ্রুপিং, নানাবিধ কারণে বেগমগঞ্জের গুরুত্ব অনেকটা কমে এসেছে। বেগমগঞ্জে বর্তমানে তিনটি গ্রুপ সক্রিয়। ঐ নেতা আরো জানান, ২০০৩ সালে অনেক বাধা পেরিয়ে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা তোফায়েল আহমদের হস্তক্ষেপে বেগমগঞ্জ উপজেলা সম্মেলন হয়েছিল। সভাপতি সম্পাদক ঘোষণা করা হলেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণায় দীর্ঘ সময় পার করতে হয়। এরপর চৌমুহনী নগর কমিটি গঠন করা হয়। উল্লেখ্য, দীর্ঘ নয় বছর বেগমগঞ্জে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম চলছে গ্রুপ প্রধানদের মর্জি মোতাবেক। দীর্ঘ কয়েক বছর পর বেগমগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়নের সম্মেলন করে কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে ঠিকই; কিন্তু সমস্যা একই। কোন গ্রুপের লোকের প্রাধান্য থাকবে। সেই প্রতিযোগিতায় অনেক ইউনিয়নে সম্মেলন করা সম্ভব হচ্ছে না। দেশব্যাপী জামায়াত শিবিরের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিটা এলাকায় যেখানে মিটিং মিছিল হবার কথা সেখানে ২২শে নভেম্বর দায়সারা গোছের মিছিল চৌমুহনী শহরের চৌরাস্তা থেকে মূল শহর পর্যন্ত করেই শেষ। মোটকথা প্রতি ইউনিয়ন, ওয়ার্ড বা মহল্লায় দলীয় কর্মসূচি অনুপস্থিত। এ ব্যাপারে বেগমগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা পরিষদ প্রশাসক ডাঃ এ বি এম জাফরউল্ল্যার জানান, যথাশীঘ্র সম্ভব ইউনিয়নের সম্মেলন সমাপ্ত করে উপজেলা ও চৌমুহনী নগর সম্মেলন সমাপ্ত করা হবে। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সক্রিয় করে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে।