কাপাসিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা ঠিকানা ফেরত চান

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫২
স্বাধীনতার ৪১ বছর পেরিয়ে গেলেও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দিন আহমদের জন্মস্থান কাপাসিয়ার মুক্তিযোদ্ধারা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নিজস্ব কার্যালয়, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের স্মৃতি সংরক্ষণ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য ও দুঃস্থ-অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের আয় বৃদ্ধিমূলক কিছুই পায়নি। বিগত সকল সরকার তাদের আশ্বাস দিলেও গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নির্মাণাধীন প্রায় সমাপ্ত ৬০টি দোকান ভেংগে দিয়ে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের পরিবারকে পথে বসিয়েছে। কাপাসিয়ার মুক্তিযোদ্ধার উক্ত জায়গা নিজেদের নামে বরাদ্দ পেতে চায়। জানা যায়, কাপাসিয়া থানার দক্ষিণ পাশে বানারহাওলা মৌজায় ৭৯ সালে জেলা পরিষদের একটি মজা পুকুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে লিজ নেয়া হয়। এ সময় সরকারি প্রায় ৩০ শতাংশ খাস জমি লিজ নিয়ে একটি টিনশেড অফিস ঘর নির্মাণ করা হয়। পরবর্তী সামরিক শাসক এইচ. এম এরশাদ কাপাসিয়া এসে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য জেলা পরিষদ থেকে ১৪ শতাংশ জমি লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। তিনি আশ্বাস দেন এখানে একটি অফিস, লাইব্রেরি ও স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হবে। পরে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু স্থায়ী অফিস ও লাইব্রেরি আর হয়নি। ৯২ সালে বিএনপি সরকারের পাটমন্ত্রী থাকাকালে আ.স.ম হান্নান শাহ পুকুর ভরাটের ব্যবস্থা করেন এবং তখন থেকে উক্ত স্থানটি শত শত মুক্তিযোদ্ধার বীরত্বগাঁথা ও গৌরব মন্ডিত “মুক্তিযোদ্ধা চত্বর” হিসাবে পরিচিতি লাভ করে। এখানে মহান বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসসহ বিভিন্ন জাতীয় দিবসে মেলাসহ নানা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হত। ৯৮ সালে পানি সম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক উক্ত চত্বরে মাল্টি পারপাস মার্কেট নির্মাণের লক্ষ্যে ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী আফছার উদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করায় উক্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। ২০০৭ সালে অসহায় ও অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের কর্মসংস্থান ও আয় বৃদ্ধির জন্য উক্ত চত্বরে ৬০টি দোকান প্রায় সমাপ্ত করা হয়। এতে প্রায় ১৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়। কিন্তুু গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় উক্ত মার্কেটের জমির লিজ নবায়ন করা হয়নি এ অভিযোগে গাজীপুর জেলা পরিষদ অবৈধ দখল হিসাবে সবগুলো দোকান ভেংগে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় অসহায় মুক্তিযোদ্ধাদের আহাজারি জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষের মন গলাতে পারেনি। ফলে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা সর্বস্বান্ত ও ঋণগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। অপরদিকে উচ্ছেদের পর উক্ত মার্কেটের জায়গা জেলা পরিষদ কোন কাজে ব্যবহার না করায় বর্তমানে আবর্জনার স্তূপ ও টেম্পু স্ট্যান্ড হিসাবে ব্যবহূত হচ্ছে। এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বজলুর রশিদ মোল্লা বলেন, আমরা এখন আর সরকারের কাছে কিছুই চাই না। এখানে কোন বাণিজ্যিক ভবনও চাই না। জায়গাটি মুক্তিযোদ্ধাদের নামে পূর্বের ন্যায় বরাদ্দ দিয়ে বঙ্গতাজ নামে একটি অডিটরিয়াম ও একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হোক।