চৌহালী-যেখানে কোনদিন হরতাল হয়নি

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০১২, ২১:৫৫
ক্ষমতায় থাকাকালে সরকারি দল বিরোধিতা করে দেশ অচলের হাতিয়ার হরতালের। আর ক্ষমতা থেকে সরে গেলেই হরতালকে আন্দোলনের হাতিয়ার বলে মনে করে। তবে এ হরতাল পালন নিয়ে দেশের একটি স্থান এখনো ব্যতিক্রম। এটি হচ্ছে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী বিধৌত চৌহালী উপজেলা। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, বাসদসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল যতগুলো দিন হরতাল করেছে তার কোনটিরই প্রভাব পড়েনি এই উপজেলায়। এখানে হরতাল সফলভাবে পালনে বিরোধী দলীয় পিকেটারদের মাঠে নামতে হয় না। আবার হরতাল প্রতিরোধেও প্রয়োজন হয় না পুলিশ ও সরকার দলীয় নেতাকর্মীদের। চৌহালীতে হরতালের মূল বাধা বিশাল যমুনা নদী। তাই জামায়াতে ইসলামীর ডাকা গতকালের হরতালের অবস্থাও ছিল অতীতের মতই। যমুনা নদী বেষ্টিত চৌহালীতে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে নৌকা। আর চলাচলের জন্য রয়েছে এনায়েতপুর, বেতিল, চৌহালী, বোয়ালকান্দি, কৈজুরি, উমরপুর, শৈলজানা, স্থলচর, বড় চৌহালীসহ আরো কয়েকটি স্থানে নৌকা ঘাট। গতকাল মঙ্গলবার জামায়াতের হরতাল থাকলেও এসব ঘাট থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকা চলাচল করেছে সারাদিন। কেউ আসেনি বাধা দিতে। আবার উপজেলা পরিষদে অবস্থিত বিভিন্ন অফিস, ব্যাংক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যথারীতি ছিল সকলের উপস্থিতি। এ ব্যাপারে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অতীন কুমার কুণ্ডু জানান, আমাদের এখানে হরতাল নামে মান। এর বিরূপ প্রভাব নেই। যমুনা ঘেরা এ উপজেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্বলের কারণে কোন পিকেটার ছিল না উপজেলা জুড়ে। তাই হরতালমুক্ত ছিল পুরো চৌহালী।